বন্ধ হচ্ছে পাকিস্তানের জল! মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক, মাথায় হাত ইসলামাবাদের

তীব্র দাবদাহ আর চরম আর্থিক সংকটের মাঝেই পাকিস্তানের জন্য ঘনিয়ে এল আরও বড় বিপদ। সিন্ধু জল চুক্তির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ভারত ঘোষণা করেছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে শাহপুর কান্দি ব্যারাজের কাজ সম্পূর্ণ হলেই রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর সীমান্ত পার করে পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না। ভারতের এই এক পদক্ষেপে কার্যত মরুভূমি হওয়ার মুখে পাকিস্তানের বিশাল কৃষি অঞ্চল।

ভারতের জল আর পাকিস্তানে নয়!
দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ভারতের রাভি নদীর উদ্বৃত্ত জল বয়ে যেত পাকিস্তানে। কিন্তু এপ্রিল থেকে সেই ছবির আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা স্পষ্ট জানিয়েছেন, খরাপ্রবণ কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় সেচব্যবস্থা উন্নত করাই ভারতের লক্ষ্য। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “পাকিস্তানে যে অতিরিক্ত জল যাচ্ছে, তা এবার রুখতেই হবে।”

শাহপুর কান্দি প্রকল্প: ৪ দশকের অপেক্ষা শেষ
১৯৭৯ সালে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে তা থমকে ছিল। ১৯৮২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। অবশেষে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই জাতীয় প্রকল্পের কাজ শেষ হতে চলেছে। এর ফলে ভারতের প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমি নতুন করে সেচের সুবিধা পাবে।

কেন এই পদক্ষেপ আইনত বৈধ?
১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বদিকের তিনটি নদী—সতলুজ, বিপাশা ও রাভির ওপর ভারতের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এতদিন পরিকাঠামোর অভাবে যে জল পাকিস্তান পাচ্ছিল, তা ছিল ভারতের দয়া। কিন্তু পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত কঠোর অবস্থান নেয়। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের নদীর জল নিজেদের উন্নয়ন ও কৃষিকাজে ব্যবহার করা কোনো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়।

বিপাকে পাকিস্তান: খাদ্য সংকটের আশঙ্কা
পাকিস্তানের জিডিপি-র ২৫ শতাংশ আসে কৃষি থেকে, যা মূলত সিন্ধু নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। রাভি নদীর জল বন্ধ হলে লাহোর ও মুলতানের মতো বড় শহরগুলিতে হাহাকার পড়ে যাবে। পাকিস্তান ইতিমিধ্যেই একে ‘ওয়াটার ওয়ার’ বা জল-যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে ভারত নিজের অবস্থানে অনড়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy