হিন্দুধর্মে জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অশুভ সময় হিসেবে গণ্য হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণ সর্বদা অমাবস্যার দিনে এবং চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণিমার দিনে সংঘটিত হয়। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ফাল্গুন মাসের অমাবস্যায় হয়েছিল। বছরের পরবর্তী ও শেষ সূর্যগ্রহণটি ঘটবে আগামী ১২ই আগস্ট, শ্রাবণ মাসের অমাবস্যার দিনে। অন্যদিকে, বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণটি ২৮শে আগস্ট, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ঘটবে। কাকতালীয়ভাবে, এই দিনেই পালিত হবে রাখিবন্ধন উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, গ্রহণের এই বিশেষ সময়কে মোটেও স্বাভাবিক বলা যায় না। এই সময়ে বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা শতাব্দী প্রাচীন রীতি।
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় যে নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে:
খাদ্য গ্রহণ বর্জন: ধর্মীয় বিশ্বাস ও জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহণের সময় আহার করা নিষিদ্ধ। এই সময়ে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব প্রবল থাকে বলে মনে করা হয়। গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই রান্না করে নেওয়া উচিত এবং খাবার ও পানীয়ের পাত্রে তুলসী পাতা দিয়ে রাখলে সেই খাবার দূষণমুক্ত থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।
গৃহকর্ম থেকে বিরত থাকা: গ্রহণের চলাকালীন ঘর পরিষ্কার করা, ঝাড়ু দেওয়া বা মোছা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই সময়টি মূলত ঈশ্বরকে স্মরণ করা, ধ্যান করা এবং মন্ত্র জপের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। বাড়ির অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর করা শুভ।
নিদ্রা পরিহার: গ্রহণ চলাকালীন ঘুমানো অত্যন্ত অশুভ বলে বিবেচিত হয়। শাস্ত্রমতে, এই সময়ে মানুষকে সচেতন থেকে ঈশ্বর আরাধনায় মগ্ন থাকতে হয়।
ধারালো বস্তুর ব্যবহার নিষিদ্ধ: গ্রহণের সময় সেলাই, সূচিকর্ম বা বুননের কাজে ধারালো কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া নখ কাটা বা চুল কাটার মতো কাজ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
ধর্মীয় বিধিনিষেধ: গ্রহণের সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং কোনো ধরণের আচার-অনুষ্ঠান করা হয় না। এই সময়ে বিগ্রহ স্পর্শ করা বা তুলসী পাতা ছেঁড়া শাস্ত্রীয় মতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সতর্কতা: গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের বাইরে বেরোনো উচিত নয়। জনশ্রুতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়কার প্রভাব মা ও গর্ভস্থ শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বছরের শেষ এই গ্রহণগুলোর সময় সচেতন থাকা এবং শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলাই শান্তির পথ। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর স্নান সেরে ঘর ও নিজেকে শুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মগুলো পালন করলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন জ্যোতিষবিদরা।





