বঙ্গজয়ী শুভেন্দু! দিদির ১৫ বছরের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে রাইটার্সে এখন গেরুয়া আবির

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটল। এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই মহাবিজয়ের মহানায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের ৮০ আসনে সীমাবদ্ধ থাকা এবং বিজেপির এই বিপুল জয় কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতি ক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হয়।

নন্দীগ্রামের মাটি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্তরণ কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। মেদিনীপুরের এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু ১৯৯৫ সালে কাউন্সিলর হিসেবে হাতেখড়ি পান। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন। বাম আমলের সেই রক্তক্ষয়ী জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের মূল কারিগর ছিলেন তিনি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের পতন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের পেছনে শুভেন্দুর ‘অর্গানাইজেশন’ ছিল প্রধান স্তম্ভ। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে সাংসদ হওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি মন্ত্রী হন। পরিবহন ও সেচের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলানো শুভেন্দু মমতার মন্ত্রিসভায় ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

মমতার ‘প্রিয় ভাই’ যখন প্রধান শত্রু
২০২০ সালের অক্টোবর মাস থেকে বাংলার রাজনীতিতে ফাটল দেখা দেয়। তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব মেনে নিতে পারেননি শুভেন্দু। একসময় মমতা যাঁকে পরিবারের সদস্য মনে করতেন, সেই শুভেন্দুই দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। প্রশান্ত কিশোর ও সৌগত রায়ের মতো দূতেরা বারবার বৈঠক করেও তাঁকে টলাতে পারেননি। ২ ডিসেম্বর এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন— ‘একসঙ্গে কাজ করা আর সম্ভব নয়’। এরপরই মেদিনীপুরের জনসভায় অমিত শাহের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি।

বিরোধী দলনেতা থেকে নবান্ন দখল
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় না এলেও শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ওজন বহুগুণ বেড়ে যায় নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে গত কয়েক বছরে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূল সরকারের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দুর্নীতি ও প্রশাসনের ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে তিনি জনমত গঠন করেন। আজকের এই ২০৭ আসনের জয় শুভেন্দুর সেই লড়াইয়েরই ফসল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনের পর বাংলার মসনদে এখন বসলেন তাঁরই এককালীন প্রধান সেনাপতি। শপথ গ্রহণ শেষে শুভেন্দু জানান, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হবে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিল্পায়ন নিশ্চিত করা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy