কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক দাপুটে কাউন্সিলর। শ্লীলতাহানি এবং মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে টালিগঞ্জ এলাকার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে। রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে এলাকায় দাপট দেখানো এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছিল। বুধবার রাতে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় এবং কাউন্সিলরকে পাকড়াও করে। জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। ওই মহিলার অভিযোগ, কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল কেবল তাঁকে শ্লীলতাহানিই করেননি, বরং প্রতিবাদ করায় তাঁকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই ওই মহিলা রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রিজেন্ট পার্ক থানা সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে শাসকদলের ‘দাদাগিরি’ ও ‘দুষ্কৃতীরাজ’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, কাউন্সিলরের মতো জনপ্রতিনিধি যদি এমন কাজে লিপ্ত থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন?
যদিও এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দলের অন্দরে যে এই গ্রেপ্তার ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে, তা স্পষ্ট। কলকাতা পুরসভার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকার দাপুটে নেতা হওয়ার কারণে অনেকেই বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কিন্তু মহিলার এই সাহসিকতার ফলেই অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে ধৃত কাউন্সিলরকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং আর কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আজ তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আপাতত গোটা ঘটনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শহরবাসী। পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অপরাধ দমনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





