নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এবার ঘর গোছাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। বুধবার বিকেলে কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত হলো এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। নবনির্বাচিত ৬৯ জন বিধায়ককে নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বুধবার সরগরম হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। পরাজয়ের ধাক্কা সামলে আগামী দিনে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূলের ভূমিকা কী হবে, মূলত তার রূপরেখা তৈরি করতেই এই জরুরি তলব বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের মধ্যমণি ছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুধু পিসি-ভাইপো নন, এই মহাবৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন দলের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, সুব্রত বক্সী, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমের মতো বর্ষীয়ান নেতারাও নেত্রীর নির্দেশ শুনতে হাজির ছিলেন কালীঘাটে।
বৈঠকের প্রধান নির্যাস: এদিন নবনির্বাচিত বিধায়কদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বেশ কিছু কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে বিরোধী বেঞ্চে বসে কীভাবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে এবং নিজেদের এলাকায় সংগঠনের রাশ কীভাবে শক্ত রাখতে হবে, সে বিষয়ে বিধায়কদের পাঠ দিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের নয়া গাইডলাইন: সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে প্রতিটি বিধায়কের কাজের খতিয়ান রাখা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। দলের তরুণ তুর্কিদের আগামী লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কারা ছিলেন বিশেষ আকর্ষণে? প্রবীণ ও নবীনের এই মেলবন্ধনে এদিন নজর কেড়েছেন জুন মালিয়া, রাজ চক্রবর্তী ও সায়নী ঘোষের মতো তারকা বিধায়করাও। বিধানসভায় বিজেপিকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে দলগত ঐক্যের বার্তাই ছিল এই বৈঠকের মূল সুর।
ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের এই তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোনো বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। কালীঘাটের এই রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর তৃণমূল বিধায়করা নতুন উদ্যমে মাঠে নামেন কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।





