আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে নিজেদের রণকৌশল স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯১টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর প্রধান শক্তি ‘নারী শক্তি’ এবং ‘সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক’। যেখানে বিজেপির প্রথম তালিকায় কোনো সংখ্যালঘু মুখ নেই, সেখানে তৃণমূল এক ধাক্কায় ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থীকে ময়দানে নামিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।
পরিসংখ্যানের লড়াই: ২০২১ বনাম ২০২৬
তৃণমূলের এবারের প্রার্থী তালিকায় এক নজরে দেখা যাচ্ছে বড়সড় পরিবর্তন:
-
সংখ্যালঘু মুখ: ২০২১-এ তৃণমূলের সংখ্যালঘু প্রার্থী ছিলেন ৩৫ জন, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি মুসলিম প্রার্থীকে ভরসা করেছেন নেত্রী।
-
নারী শক্তি: এবার মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ৫২, যা গতবারের (৫০ জন) তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। যেখানে বিজেপির ১৪৪ জনের তালিকায় মহিলা মুখ মাত্র ১১ জন এবং বামেদের ১৯২ জনের তালিকায় মাত্র ২৮ জন।
-
তফশিলি প্রতিনিধিত্ব: ৯৫ জন প্রার্থী তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায় থেকে মনোনীত হয়েছেন।
কেন মুসলিম ভোট এত গুরুত্বপূর্ণ?
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে অন্তত ৭০টি কেন্দ্রে প্রার্থীর জয়-পরাজয় সরাসরি নির্ধারিত হয় মুসলিম ভোটেই। তৃণমূলের এই ‘একচেটিয়া’ আধিপত্য বজায় রাখতেই উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সবত্রই অভিজ্ঞ ও নতুন সংখ্যালঘু মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের ৪৭ জন মুসলিম সেনাপতি (এক নজরে উল্লেখযোগ্য নাম):
মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো জেলাগুলিতে প্রায় প্রতিটি আসনেই শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তালিকায় রয়েছেন:
-
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ: ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা পোর্ট), জাভেদ আহমেদ খান (কসবা), শওকত মোল্লা (ভাঙড়), সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (মন্তেশ্বর), কাজল শেখ (হাঁসন)।
-
মুর্শিদাবাদ: জাকির হোসেন (জঙ্গিপুর), হুমায়ুন কবির (ডোমকল), বায়রণ বিশ্বাস (সাগরদিঘি)।
-
উত্তরবঙ্গ: সাবিনা ইয়াসমিন (সুজাপুর), মহম্মদ গুলাম রব্বানি (গোলপোখর), আবদুর রহিম বক্সী (মালতিপুর)।
বিজেপির অস্বস্তি কি বাড়বে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ‘ইনক্লুসিভ’ প্রার্থী তালিকা রাজ্যের প্রান্তিক ভোটারদের কাছে বড় বার্তা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলোতে যেখানে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক, সেখানে তৃণমূলের এই ৪৭ জন প্রার্থীর লড়াই বিজেপির হিন্দুত্ববাদী প্রচারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।