“প্রায় ৯০ কোটির ‘ঋণ খেলাপি”-অভিজ্ঞতাহীনের হাতে বাংলাদেশের ব্যাঙ্ক, নেপথ্যে কি বড় কোনো ছক?

বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। প্রথা ভেঙে কোনো অর্থনীতিবিদ বা অভিজ্ঞ আমলা নন, বরং সরাসরি এক পোশাক শিল্প ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদে বসাল বিএনপি সরকার। নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ ঘিরেই এখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি। শুধু অভিজ্ঞতার অভাব নয়, তাঁর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জোটসঙ্গী জামাত-ই-ইসলামী।

অপমানিত হয়ে বিদায় আহসান মনসুরের? ইউনূস সরকারের আমলে নিযুক্ত হওয়া বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান হাবিব মনসুরের বিদায়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পদত্যাগের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি সংবাদপত্র দেখে জানলাম আমার মেয়াদ শেষ। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।” কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা ছাড়াই জনতার ভিড় ঠেলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে তাঁর এই প্রস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কে এই মোস্তাকুর রহমান? যাঁর ব্যাঙ্কিং জগতে কোনো অভিজ্ঞতাই নেই, সেই মোস্তাকুর রহমান আদতে বিএনপির প্রথম সারির নেতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ‘হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড’-এর এমডি ও সিইও।

ঋণখেলাপির মুকুট মাথায় নিয়ে গভর্নর? সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর বকেয়া ঋণ নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া প্রায় ৮৯ কোটি টাকার ঋণখেলাপি ছিলেন তিনি। নির্বাচনের আগে নিয়ম শিথিল করে মাত্র ১-২ শতাংশ টাকা জমা দিয়ে সেই ঋণ পুনঃতফসিল (Reschedule) করা হয়। খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর হওয়ার আগে নিজের প্রতিষ্ঠানের ঋণ মকুবের এই ‘সুবিধা’ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিএনপি-জামাত সংঘাত চরমে: জামাত আমীর এই নিয়োগকে “সরকার সমর্থিত জনতা সংস্কৃতির আনুষ্ঠানিক সূচনা” বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতো সংবেদনশীল জায়গায় একজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীকে বসানোয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাঙ্কিং কাঠামোর ওপর বড়সড় আঘাত আসতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy