বারংবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বিদ্ধ হওয়ার পর এবার কঠোর অবস্থান নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনা পুরোপুরি নির্মূল করতে এনটিএ এবার এক ‘গোপন’ ও অভিনব মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা করেছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, নতুন এই ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বা শিক্ষকরাও জানবেন না যে, ঠিক কোন পরীক্ষার জন্য তাঁরা প্রশ্ন তৈরি করছেন!
কী এই নয়া কৌশল? এনটিএ সূত্রে খবর, ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বিশাল এক ডেটাবেস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাজার হাজার প্রশ্ন বেছে নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট অংশ বা সেকশন দেওয়া হবে প্রশ্ন তৈরির জন্য। অর্থাৎ, একজন বিশেষজ্ঞ কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ছোট একটি অংশের ওপর প্রশ্ন তৈরি করবেন। পুরো প্রশ্নপত্রটির কাঠামো বা চূড়ান্ত রূপ সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কোনো ধারণাই পাবেন না। এমনকি, প্রশ্নপত্রটি চূড়ান্ত হওয়ার সময় পর্যন্ত এটি কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কি না, তাও কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে।
কেন এই উদ্যোগ? এনটিএ-র দাবি, এর ফলে কোনো শিক্ষকের পক্ষে প্রশ্নপত্র লিক করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এছাড়া, প্রশ্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না, কারণ পুরো বিষয়টি একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।
শিক্ষা মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা এই স্বচ্ছতাকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরের ফলে ভুল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
তবে এনটিএ জানিয়েছে, এই সিস্টেমটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং কঠোরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই চালু করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরীক্ষার লক্ষে এনটিএ-র এই ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ বা ব্ল্যাক-বক্স মডেল কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





