প্রমোদতরীতে মারণ ভাইরাসের থাবা! মাঝ সমুদ্রে ৩ যাত্রীর রহস্যমৃত্যু, বিশ্বজুড়ে জারি তীব্র সতর্কতা

প্রমোদতরীতে আনন্দভ্রমণ এবার পরিণত হলো বিভীষিকায়। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত একটি বিলাসবহুল ডাচ প্রমোদতরীতে (MV Hondius) হানা দিয়েছে বিরল এবং মারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ‘হান্টোভাইরাস’। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যেই তিন জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রমোদতরীটি আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মাঝ সমুদ্রে আচমকাই বেশ কয়েকজন যাত্রী জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে এক প্রৌঢ় দম্পতিসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, যেখানে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে হান্টোভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কী এই হান্টোভাইরাস? কেন এত আতঙ্ক? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টোভাইরাস মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীর মল-মূত্র বা লালা থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এটি মানুষের ফুসফুস ও কিডনির ওপর সরাসরি আঘাত হানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাস অত্যন্ত বিরল হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও এটি সাধারণত মানুষ থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায় না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।

বর্তমানে ওই প্রমোদতরীটি কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছে। জাহাজে থাকা প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু মেম্বারদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যাঁদের শরীরে সামান্য উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাঁদের দ্রুত আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছে। ডব্লিউএইচও (WHO) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে এই ধরণের মারণ ভাইরাসের হানা আধুনিক পর্যটন শিল্পের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারি করার কথা ভাবছে বিভিন্ন দেশ। এই ভাইরাস কি আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে? নাকি মাঝ সমুদ্রেই একে আটকে দেওয়া সম্ভব হবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy