প্রধানমন্ত্রীর মাকে ‘অপমান’, বিহারে ১২ ঘণ্টার বনধ, কেন এত রেগে গেলেন নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রীর মায়ের প্রতি ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য

সম্প্রতি, বিহারে ভোট অধিকার যাত্রার সময় বিরোধী জোটের নেতা রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই। মঙ্গলবার বিহারের উদ্যোগপতি মহিলাদের জন্য একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি পরোক্ষভাবে রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবকে ‘নামধারী’ বলে কটাক্ষ করেন এবং বলেন যে, ‘রূপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো’ এই ব্যক্তিরা গরিব মায়েদের সংগ্রাম বোঝেন না। কারণ, তাদের কাছে ক্ষমতা একটি পারিবারিক উত্তরাধিকার মাত্র।


 

এনডিএ-র বিহার বনধের ডাক

 

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এই ঘটনার প্রতিবাদে বিহার বনধের ডাক দিয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বনধ পালিত হবে। বিজেপি ঘোষণা করেছে যে, এই বনধ চলাকালীন সাধারণ মানুষের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য শরিক দলের মহিলা শাখা এর দায়িত্ব নেবে। এই বনধের মাধ্যমে আরজেডি ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মায়ের প্রতি করা মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানাবে এনডিএ।

এই প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে এনডিএ বোঝাতে চাইছে যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যতই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বনধের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর ওপর করা ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা এবং ভোট অধিকার যাত্রায় বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিরোধী জোটকে কোণঠাসা করা। এখন দেখার বিষয়, এই বনধ বিহারের রাজনীতিতে ঠিক কী প্রভাব ফেলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy