প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট: নবান্নে ফেরার স্বপ্নে কি জল ঢালবে এই ১০টি কাঁটা? চাপে তৃণমূল!

উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার মহাযুদ্ধ। ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের আগে নবান্ন দখলের লড়াইয়ে বেশ চাপে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির জেরে প্রথম দফাতেই বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে জোড়াফুল শিবির। কেন প্রথম দফায় ঘাসফুল শিবিরের রাতের ঘুম উড়েছে? রইল সেই ১০টি প্রধান কারণ:

১. আরজি কর ও নিয়োগ দুর্নীতি: প্রবল প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা

আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং ডিএ আন্দোলন— গত কয়েক বছরে একের পর এক ইস্যুতে জেরবার রাজ্য প্রশাসন। সাধারণ মানুষের মধ্যে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে এক প্রবল ক্ষোভ বা প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছে, যা ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২. ‘ভুতুড়ে’ ভোটার হানা ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা

রাজ্যে এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) মাধ্যমে কয়েক লক্ষ জাল ও ‘ডুপ্লিকেট’ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অতীতে অনেক আসনেই এই ভোটাররা তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান গড়ে দিত। এবার স্বচ্ছ তালিকার কারণে সেই ‘সুবিধা’ আর মিলছে না, যা তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

৩. নির্বাচন কমিশনের ‘বজ্র আঁটুনি’

শান্তিপূর্ণ ভোট করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকছে। কমিশনের এই কড়াকড়িতে তৃণমূলের প্রচলিত ‘বুথ ম্যানেজমেন্ট’ কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয় রয়েছে।

৪. জেলাভিত্তিক সমস্যার পাহাড়

মালদহ থেকে বীরভূম, সর্বত্রই তৃণমূলের অবস্থা বেশ নড়বড়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমে এবার আসন সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর দাপট এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঘাসফুল শিবিরকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।

৫. সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন

সংখ্যালঘু ভোটের একচেটিয়া মালিকানা কি হারাচ্ছে তৃণমূল? একদিকে নওসাদ সিদ্দিকির সক্রিয়তা, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামেদের তৎপরতা সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে দিচ্ছে। এছাড়া আসাউদ্দিন ওয়েইসি ও হুমায়ুন কবিরের দলের উপস্থিতি সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে।

৬. চা-বাগান ও জঙ্গলমহলের ক্ষোভ

উত্তরের চা-বাগান থেকে দক্ষিণের ঝাড়গ্রাম— প্রান্তিক মানুষের ক্ষোভ এবার পাহাড়প্রমাণ। শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে।

৭. বিজেপির হাইপ্রোফাইল প্রচার

মোদী-শাহ থেকে শুরু করে যোগী আদিত্যনাথ কিংবা মিঠুন চক্রবর্তী— বিজেপির সুসংগঠিত প্রচারের সামনে তৃণমূলের প্রচার কিছুটা ম্লান ঠেকছে। বিশেষ করে ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ‘ঝালমুড়ি খাওয়া’র মতো দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেলেছে।

৮. অন্তর্ঘাত ও নিচুতলার কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা

বেশ কিছু জেলা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট আসছে যে, দলের মাঝারি ও নিচুতলার কর্মীরা সেভাবে ময়দানে নামছেন না। টিকিট না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে ক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ‘অন্তর্ঘাতে’র আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

৯. ‘টি-২০ স্টাইলে’ খেলা কি বন্ধ?

তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রায়ই ভোটের দিন ‘টি-২০ স্টাইলে’ ব্যাটিং করে বুথ দখলের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এবার আধা সামরিক বাহিনীর দাপটে সেই কৌশলে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দিদির চিন্তা আরও বেড়েছে।

১০. লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়ে তুরুপের তাস খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি ৩০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ এবং বেকার ভাতার বদলে ‘জব কার্ড’-এর পাল্টা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই হাওড়া পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy