দুই উচ্চপদস্থ আমলার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত তিক্ততা যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চৌকাঠে পৌঁছায়, তখন তা কেবল তাদের ক্যারিয়ারই নয়, প্রশাসনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইএএস কর্মকর্তা রোহিনী সিন্ধুরি এবং আইপিএস ডি. রূপা মৌদগিলের বিবাদ নিরসনে এবার মধ্যস্থতার পথ বেছে নিল সুপ্রিম কোর্ট।
মধ্যস্থতায় প্রাক্তন বিচারপতি বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটিকে মধ্যস্থতার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামীতে দুই কর্মকর্তার মধ্যে হওয়া সমস্ত আইনি কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে।
আদালতের বার্তা: কেরিয়ারের দিকে নজর দিন মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আদালত দুই কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “আপনারা দুজনেই অত্যন্ত দক্ষ এবং যোগ্য অফিসার। নিজেদের এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মাধ্যমে আপনারা একে অপরের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছেন।” আদালত তাদের দ্রুত বিবাদ মিটিয়ে কর্মজীবনে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বিবাদের সূত্রপাত যেখানে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই দুই আমলার মধ্যে প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। আইপিএস ডি. রূপা ফেসবুকে রোহিনী সিন্ধুরির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস এবং দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক পোস্ট করেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রোহিনী সিন্ধুরি মানহানির মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে এই দুই কর্মকর্তার লড়াই আইনি এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরও জটিল আকার ধারণ করে।
মামলার বর্তমান প্রেক্ষাপট রোহিনী সিন্ধুরি কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি (SLP) দায়ের করেছিলেন। হাইকোর্ট এর আগে তাদের বিবাদ মেটানোর সুযোগ দিলেও তা ব্যর্থ হয়। এছাড়া ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪-এ আইপিএস ডি. রূপা একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যেখানে সিন্ধুরির বিরুদ্ধে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলার অভিযোগ ওঠে। এসব জটিলতার জেরেই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে।
বর্তমানে দুই আমলাকে বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশজুড়ে আলোচিত এই আমলাতান্ত্রিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে হাঁটে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





