পশ্চিমবঙ্গের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে এমনিতেই বহু চর্চা রয়েছে। কিন্তু এবার এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এল যা শুনে রীতিমতো অবাক সাধারণ মানুষ। বহরমপুর থানার রাধারঘাট-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল শেখ, একজন পুরুষ হয়েও টানা দুই বছর ধরে নিয়মিত তুলেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা! বুধবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্যের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র নাম তালিকা যাচাইয়ের সময়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন এবং উপভোক্তাদের তালিকা ঝাড়াই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন, তখনই রাকিবুলের নাম সামনে চলে আসে। দেখা যায়, লিঙ্গ পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত সরকারি অনুদান ঢুকছে। নবান্ন সভাঘরে তার নাম উঠে আসার পরই শুরু হয় প্রশাসনিক তোড়জোড়। রাতেই বহরমপুর থানার পুলিশ তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে পাকড়াও করে।
ধৃত রাকিবুল শেখ এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে একটি রেস্তোরাঁ চালান তিনি এবং সেখান থেকে তার ভালো আয়ও রয়েছে। তবুও সরকারি এই সুবিধা কীভাবে তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছাল? রাকিবুলের দাবি, তিনি নিজে কোনোদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেননি। তার স্ত্রী এই প্রকল্পের উপভোক্তা। দুর্ঘটনাবশত তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করে। রাকিবুল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি বারবার বিডিও অফিসে গিয়েছি নাম কাটাতে। কিন্তু কোনো ভ্রূক্ষেপই করা হয়নি। এটি পুরোপুরি প্রশাসনিক গাফিলতি।”
রাকিবুলের এই দাবির বিপরীতে উঠছে বড় প্রশ্ন—প্রশাসনিক গাফিলতি কি এতটাই গভীর যে, একজন পুরুষ উপভোক্তার যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়াই দুই বছর ধরে সরকারি অর্থ প্রদান করা হলো? যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপক নিয়ে রাজ্যজুড়ে নানা অভিযোগ উঠছে—অনেক জায়গায় সরকারি মহিলা কর্মচারীদের নাম থাকারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে—সেখানে পুরুষ হয়ে একজন ব্যক্তির এই সুবিধা ভোগ করা কি সত্যিই শুধুই ভুল, নাকি এর পেছনে কোনো বড়সড় চক্র কাজ করছে?
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের স্বচ্ছতা নিয়ে যা দাবি করা হয়, তার আসল রূপ কি এটাই? সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে বেহাত হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে, রাকিবুল কি কেবল একজনই, নাকি তার মতো আরও অনেক পুরুষের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকছে? রাকিবুলকে গ্রেফতারের মাধ্যমে পুলিশ এখন মূল শিকড় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনা কি কোনো বৃহত্তর দুর্নীতির ইঙ্গিত? উত্তর খুঁজছে বহরমপুরসহ গোটা রাজ্য।





