লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নির্দেশে বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রশাসকের পদে বড়সড় রদবদল করা হলো। আগের পুরপ্রশাসক কমল সরকারকে সরিয়ে এবার বুনিয়াদপুর টাউন তৃণমূল যুবর সভাপতি সমীর সরকার-কে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সহকারী প্রশাসক জয়ন্ত কুণ্ডুকেও সরানো হয়েছে এবং তাঁর পুত্রবধূ টিঙ্কু পাল-কে নতুন সহকারী প্রশাসক করা হয়েছে।
২০২৬-এর লক্ষ্যে রদবদল
তৃণমূল সূত্রে খবর, সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুরের তিনটি পুরসভা—বুনিয়াদপুর, গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাটে—তৃণমূল অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। বিশেষত, বুনিয়াদপুরে তৃণমূল প্রায় ৫,৮০০ ভোট কম পাওয়ায় প্রশাসক কমল সরকারের কাজে সন্তুষ্ট ছিলেন না অভিষেক।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুনিয়াদপুরের সংগঠনকে পুরোপুরি নিজের হাতে নেওয়ার কৌশল হিসেবেই অভিষেক এই রদবদলের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সমীর সরকার এবং সহকারী প্রশাসক টিঙ্কু পাল দু’জনেই রাজ্যের মন্ত্রী তথা হরিরামপুর বিধানসভার বিধায়ক বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
যুব সভাপতির প্রতিক্রিয়া
পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব পেয়ে সমীর সরকার বলেন, “দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই দায়িত্ব আমি সম্পূর্ণভাবে পালন করব। গত নির্বাচনে বুনিয়াদপুরের ফলাফল সত্যিই খুব খারাপ হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যেন সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পারি এবং ভালো ফলাফল করতে পারি, সেই চেষ্টা করব।”
বিজেপি-র তোপ: ‘তোলাবাজির আঁতুড়ঘর’
তৃণমূলের এই রদবদল নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য দীপেশ বসাক অভিযোগ করেন, তৃণমূল বুনিয়াদপুর পুরসভাকে ‘তোলাবাজির শহর’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন:
২০১৭ সালে পুরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল ঘন ঘন পুরপ্রশাসক পরিবর্তন করেছে।
প্রায় আট বছর গঠিত হলেও বুনিয়াদপুর পুরসভায় এখনও পর্যন্ত নিকাশি ব্যবস্থা নেই।
স্টেডিয়াম তৈরির কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
দীপেশ বসাকের দাবি, “মানুষ তৃণমূলের পাশে নেই। এই রদবদল করে কোনও লাভ হবে না, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি আরও ভালো ফল করবে।”