পুতিন-শির মোদীর বন্ধুত্বে আমেরিকার অস্বস্তি, ভারতকে কড়া বার্তা দিল ট্রাম্প শিবির

চিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর একসঙ্গে উপস্থিত হওয়া নিয়ে আমেরিকার মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে আমেরিকার সরকারি মহল ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে ‘একবিংশ শতাব্দীর পরিচয়’ বলে প্রশংসা করছে, অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা আসছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে যে ভারত ও আমেরিকার মধ্যেকার সম্পর্ক এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন এই সম্পর্ককে শুধু কৌশলগত নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে বর্ণনা করেছে। তারা সামাজিক মাধ্যমে #USIndiaFWDforOurPeople হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির কথা তুলে ধরেছে।

ট্রাম্প শিবিরের কড়া আক্রমণ
তবে, এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে ট্রাম্প শিবিরে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নাভারো গত এক সপ্তাহে একাধিকবার ভারতকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন।

‘মোদীর যুদ্ধ’: ২৮ আগস্ট নাভারো বলেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত আসলে “মোদীর যুদ্ধ।” তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে তা পরিশোধন করে বেশি দামে বিক্রি করছে, যা পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সাহায্য করছে।

‘অর্থ পাচারকারী যন্ত্র’: পরের দিন, ২৯ আগস্ট, নাভারো ভারতকে ‘ক্রেমলিনের অর্থ পাচারকারী যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, ভারত এই প্রক্রিয়ায় লাভ করছে এবং রাশিয়াকে শক্তি জোগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যই হলো এই ধরনের লেনদেন বন্ধ করা।

এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে আমেরিকার মধ্যে ভারত সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন দুটি চিত্র ফুটে উঠছে। একদিকে সরকারি স্তরে সম্পর্কের প্রশংসা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে ক্রমাগত অসন্তোষ প্রকাশ করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy