পুজো অনুদানে নয়া মোড়! বড় ক্লাবগুলো কি বঞ্চিত? অনুদান পাবেন কেবল এই কমিটিগুলিই

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সরকারি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দানা বেঁধেছিল জল্পনা। বিশেষ করে ক্লাবগুলিকে দেওয়া দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন পুজো উদ্যোক্তারা। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান ব্যবস্থা চালু থাকবে, তবে তা বণ্টন করা হবে সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে।

তৃণমূল জমানায় ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্লাবগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা ছিল সর্বজনীন। কিন্তু নতুন সরকারের নীতি অনুযায়ী, এবার থেকে অনুদানের ক্ষেত্রে “প্রয়োজনীয়তা” বা আর্থিক স্বচ্ছলতাকে মূল মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বড় ও সামর্থ্যবান ক্লাবগুলি এবার সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে। শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, সরকার শুধুমাত্র আর্থিকভাবে দুর্বল বা ছোট পুজো কমিটিগুলির পাশে দাঁড়াবে। যারা পুরোপুরি সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করেন, কেবল তাদেরই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। যাদের নিজস্ব আয়ের উৎস বা সামর্থ্য রয়েছে, তাদের সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে বর্তমান প্রশাসন।

ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ক্লাব মহলে আশঙ্কা ছিল যে পুজোর অনুদানও হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট, পূর্বতন সরকারের কোনো কল্যাণমুখী প্রকল্পই পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, বরং সেগুলোকে আরও যৌক্তিক ও সুশৃঙ্খল করা হচ্ছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, পুজোর অনুদানের ক্ষেত্রেও সরকার ‘যোগ্য’ উপভোক্তাদের বেছে নেওয়ার পথেই হাঁটছে।

তবে সরকার ঠিক কত টাকা অনুদান দেবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী বৈঠকের পরেই চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশিত হবে। সব মিলিয়ে, পুজোর অনুদান নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত ক্লাব সংস্কৃতির সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। বড় ক্লাবগুলোর অনুদান বন্ধ করে সেই অর্থ গরিব ক্লাবগুলোর উন্নয়নে ব্যবহার করার এই নতুন মডেল এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy