হিমালয়ের কোলে বরফঢাকা শান্ত পাহাড়। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে এখন সর্বত্রই কেবল একটাই গুঞ্জন— “কাল কী হবে?” ভৌগোলিক দূরত্ব প্রায় হাজার কিলোমিটার হতে পারে, কিন্তু নাড়ির টান যে বড় বালাই! তাই ৪ মে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সিকিমের আনাচে-কানাচেও এখন টানটান উত্তেজনা। প্রবাসী বাঙালিদের আড্ডায় মোমোর ধোঁয়ার চেয়েও এখন বেশি গরম বাংলার ভোটের হাওয়া।
পাহাড়ে ‘বাংলার’ লড়াই গ্যাংটকের এমজি মার্গ হোক বা লাচুং-এর কনকনে ঠান্ডা— সিকিমে কর্মরত কয়েক হাজার প্রবাসী বাঙালির কাছে কালকের দিনটি বড় উৎসবের চেয়ে কম কিছু নয়। পেশার তাগিদে ঘর ছাড়লেও মনটা পড়ে আছে সেই বাংলাতেই। সোমবার সকাল ৮টায় যখন বাংলায় ইভিএম খোলা হবে, তখন গ্যাংটকের প্রবাসী শ্রমিক থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী— সবার চোখ আটকে থাকবে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে।
আবেগের টানে চাতক পাখির অপেক্ষা সিকিমের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। তাঁর মতে, “শরীরটা পাহাড়ে থাকলেও মনটা পড়ে আছে নিজের পাড়ার গণনাকেন্দ্রে। অফিস থেকে ফেরার সময় এখন লোকাল ট্রেনের মতো এখানেও চায়ের দোকানে আড্ডা জমছে। কেউ বলছেন পরিবর্তন হবে, কেউ বলছেন প্রত্যাবর্তন। দিদি না দাদা— এই নিয়েই চলছে বাজি ধরা।”
ডিজিটাল মাধ্যমই ভরসা এক সময় পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় খবরের কাগজ পৌঁছাতে দেরি হতো। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়া আর ডিজিটাল নিউজ পোর্টালের দৌলতে সিকিমের প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও প্রতি রাউন্ডের আপডেট নিচ্ছেন প্রবাসীরা। সিকিমের হোটেল ব্যবসায় যুক্ত মালদহের এক যুবক বলেন, “বাড়িতে ফোন করলেই আগে শুনছি এলাকায় অশান্তি নেই তো? তারপর জিজ্ঞাসা করছি ভোটের হাওয়া কী বুঝছো? কালকের দিনটা আমাদের জন্য খুব অস্থিরতার।”
বাংলার মসনদে কার জয়ধ্বজা উড়বে, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ যতটা উত্তপ্ত, সিকিমের পাহাড়েও তার উত্তাপ নেহাত কম নয়। কাল সকালে ভোট গণনার শুরু থেকেই বোঝা যাবে, সমতলের এই রাজনৈতিক ঝড় পাহাড়ের প্রবাসীদের মনে কতটা দোলা দিয়ে গেল।





