হাতে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে, গত ২৪ বছর ধরে নিয়ম করে দেশের প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন— অথচ হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন ভোটার তালিকায় আপনার নাম নেই! এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিচার পৌঁছেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। অসমের এক মহিলার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, তা দেশের কয়েক লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
আদালতের কাঠগড়ায় নাগরিকত্ব: অসমের বাসিন্দা ওই মহিলাকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তাঁর দাবি ছিল, তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয় এবং তাঁর কাছে পাসপোর্ট ও প্যান কার্ডের মতো সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে। এমনকি ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি একটানা ভোট দিয়ে আসছেন। তা সত্ত্বেও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁর নথিতে কিছু ছোটখাটো অসঙ্গতি দেখিয়ে তাঁকে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সঞ্জয় করোলের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়:
শুধুমাত্র সামান্য নথিপত্রের অমিলের জন্য একজন ব্যক্তির কয়েক দশকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যায় না।
যদি কেউ টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে ভোট দিয়ে থাকেন এবং সরকারের দেওয়া পাসপোর্ট বহন করেন, তবে তাঁকে হুট করে ‘বিদেশি’ দাগিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: সুপ্রিম কোর্ট ওই মহিলার স্বপক্ষে রায় দিয়ে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, পাসপোর্টের মতো নথির একটি বিশেষ আইনি গুরুত্ব রয়েছে, যা নাগরিকত্বের অন্যতম বড় প্রমাণ। নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আরও মানবিক ও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
অসমে এনআরসি (NRC) এবং ডি-ভোটার (D-Voter) সমস্যা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এই জয় এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।





