‘পারলে বরখাস্ত করুন!’ রাজ্যপালকে সরাসরি খোলা চ্যালেঞ্জ মমতার, ইস্তফা দেবেন না একচুলও?

বাংলায় পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়ার মাঝেই এবার বেনজির সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং চারদিকে ইস্তফার গুঞ্জনের মধ্যেই পালটা হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না। এমনকি রাজভবনের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যপাল চাইলে আমাকে বরখাস্ত করুন, কিন্তু আমি নিজে থেকে সরে দাঁড়াব না।”

শনিবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের তোড়জোড় যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে মমতার এই রণংদেহি মেজাজ রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নের ক্ষমতা ধরে রাখা এবং নৈতিক লড়াইয়ে দিল্লিকে চাপে রাখতেই এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়েছেন তিনি।

মমতার এই অবস্থানের ৩টি প্রধান দিক:

  • সরাসরি সংঘাত: রাজভবনের সঙ্গে প্রশাসনিক সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটা।

  • আইনি ঢাল: পদত্যাগ না করে নিজেকে ‘জননির্বাচিত প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরে বরখাস্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা, যাতে ভবিষ্যতে একে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা যায়।

  • দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ: পরাজয়কে জনাদেশ হিসেবে মেনে না নিয়ে একে ‘দিল্লির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রচার করা এবং আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া।

তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজভবনের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ইস্তফা না দেন, তবে রাজ্যপাল তাঁর বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

বিজেপির পক্ষ থেকে মমতার এই অবস্থানকে ‘গণতন্ত্রের অবমাননা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মানুষ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এখন হার স্বীকার না করাটা একগুঁয়েমি ছাড়া আর কিছু নয়। সব মিলিয়ে, শনিবারের আগে বাংলার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। টানটান উত্তেজনার এই মুহূর্তের সব খবর পেতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy