পশ্চিম এশিয়ায় যখন ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ব উত্তাল, ঠিক তখনই দক্ষিণ এশিয়ায় রণদামামা বাজিয়ে দিল আফগানিস্তান। ইসলামাবাদের সমস্ত হুঁশিয়ারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবিবার ভোররাতে পাকিস্তানের বুক চিরে একের পর এক এয়ার স্ট্রাইক চালাল তালিবান সরকার। ড্রোন হামলায় কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পাকিস্তানের একাধিক সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি।
নিলক্ষ্য নূর খান এয়ারবেস: ভারতের পর এবার তালিবান
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি। উল্লেখ্য, এর আগে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রত্যাঘাতেও এই ঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার তালিবানি ড্রোনের নিখুঁত নিশানায় ফের ছারখার হলো এই গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেস। শুধু রাওয়ালপিন্ডি নয়, তালিবানের হিটলিস্টে ছিল আরও বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকা:
-
কোয়েট্টা: বালোচিস্তানের ১২তম ডিভিশনের সদর দপ্তর।
-
খাইবার পাখতুনখোয়া: মহম্মদ এজেন্সির খোইজো ক্যাম্প।
-
অন্যান্য: একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানি মিলিটারি বেস।
কেন এই প্রত্যাঘাত? তালিবানের গর্জন
আফগানিস্তানের তালিবান-নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলার দায় স্বীকার করে চড়া সুরে বিবৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, শনিবার মাঝরাতে পাকিস্তান যেভাবে কাবুল ও বাগ্রাম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, এটি তারই ‘সুনির্দিষ্ট এবং সমন্বিত’ জবাব। গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি বিমান হানায় একাধিক নিরীহ আফগান নাগরিকের মৃত্যুর পর থেকেই বদলার আগুনে জ্বলছিল কাবুল।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
فَمَنِ اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْToday, the Air Force of the Ministry of National Defense conducted precise and coordinated aerial operations against key military installations in Pakistan.. pic.twitter.com/i9ctZPxjgK
— د ملي دفاع وزارت – وزارت دفاع ملی (@MoDAfghanistan2) March 1, 2026
পাকিস্তানের চিনা প্রযুক্তির মুখ পুড়ল!
এই হামলার পর বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। ইসলামাবাদ দাবি করত, তাদের কাছে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তালিবানি ড্রোন যেভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে ধ্বংসলীলা চালাল, তাতে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক মহলে হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি
আফগান সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যদি আবারও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বা কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইসলামাবাদকে এর চেয়েও “ভয়ঙ্কর পরিণতির” মুখোমুখি হতে হবে। যদিও এই বিধ্বংসী হামলার পর এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের সরকারি তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডুরান্ড লাইন বরাবর এখন শুধুই বারুদের গন্ধ। দুই দেশের এই ‘ওপেন ওয়ার’ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।