পশ্চিমবঙ্গকে কি ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর চক্রান্ত চলছে? হুঁশিয়ারি বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একযোগে একাধিক ইস্যুতে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, এবারের নির্বাচনের ফলাফল একটি দীর্ঘদিনের ‘মিথ’ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তাঁর মতে, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ছাড়াই যে বাংলায় বড় জয় সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন রাজ্যের ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা।

‘সনাতনী ঐক্যে’ই কি কুপোকাত তৃণমূল? বাংলার সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল সিনহা বলেন, “এতদিন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া রাজনৈতিক পরিবর্তন অসম্ভব। কিন্তু এবার সনাতনী সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে।” তাঁর দাবি, এই জয় আসলে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তদন্তের আঁচ কি এবার কালীঘাটে? রাজ্যের দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানান এই বিজেপি নেতা। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আমানত নয়ছয়— সব প্রসঙ্গ টেনেই তিনি দাবি করেন, “দুর্নীতির শিকড় কালীঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সঠিক পথেই এগোচ্ছে। খুব শীঘ্রই আসল অপরাধীদের মুখোশ খুলে যাবে।” পাশাপাশি অটো বা টোটো স্ট্যান্ডের মতো ছোট জায়গা থেকেও যে তোলাবাজি ও কাটমানি নেওয়া হচ্ছে, তার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ তৈরির চক্রান্ত! অনুপ্রবেশ ইস্যুতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে রাহুল সিনহা দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলার জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, “বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর ছক কষা হচ্ছে।” এই জনবিন্যাস পরিবর্তনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে বিজেপি লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও পুলিশের ভূমিকা ভোট মিটতেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ। তিনি বলেন, “বিজেপি শান্তিতে বিশ্বাস করে বলেই বড় সংঘর্ষ এড়ানো গিয়েছে। কিন্তু আমাদের কর্মীদের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার আমরা আইনি পথেই নেব।” পুলিশ প্রশাসনের একাংশের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তাঁদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিজেপি নেতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে ‘কালীঘাট’ যোগ এবং ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে শাসকদলের ওপর চাপ বজায় রাখাই এখন তাদের মূল কৌশল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy