পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় পণ্যবাহী জাহাজে উপর্যুপরি হামলার আবহে এবার গর্জে উঠলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার জাপান আয়োজিত ‘AZEC Plus’ (Asia Zero Emission Community) বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি সাফ জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন জয়শঙ্করের এই কড়া অবস্থান?
পার্ণা সেনগুপ্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিদেশমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন:
নিরাপদ যাতায়াত: ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ এবং বাধাহীন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভারত বদ্ধপরিকর।
সাপ্লাই চেইন রেজিলিয়েন্স: শক্তি বা জ্বালানি বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য সমমনোভাবাপন্ন দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হামলার প্রতিবাদ: সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জলসীমায় পণ্যবাহী জাহাজের ওপর যে ধরণের আক্রমণ হয়েছে, তাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন জয়শঙ্কর।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভারতের ভূমিকা
ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। ফলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটা মানেই দেশের অর্থনীতি ও আমদানিতে বড় ধাক্কা। বৈঠকে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল রাখতে গেলে শক্তি বাজারের ওপর থেকে সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলতে হবে।
জাপানের সাথে কৌশলগত জোট
জাপান আয়োজিত এই বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এশীয় অঞ্চলে চীনের একাধিপত্য রুখতে এবং একটি ‘মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ গড়ে তুলতে ভারত ও জাপান কতটা ঘনিষ্ঠ।
বিশেষ বক্তব্য: জয়শঙ্করের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও ফুটে উঠেছে আত্মবিশ্বাসের সুর— “বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য জ্বালানি বাজারের সুরক্ষা অপরিহার্য। ভারত যেকোনো প্রতিকূলতায় নিজের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিয়ম রক্ষায় প্রস্তুত।”





