আপনি কি নির্দিষ্ট আয়ের ওপর টিডিএস (TDS) কাটেন? কিন্তু আপনার কি নির্দিষ্ট ‘ট্যান’ (TAN) নম্বর নেই? তবে সাবধান! আয়কর দপ্তরের কড়া নির্দেশিকায় এবার বড়সড় বিপাকে পড়তে পারেন আপনি। সামান্য অসাবধানতায় প্রতিদিনের হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে আপনাকে।
আয়কর আইন অনুযায়ী, যাঁরা টিডিএস কাটছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই ‘ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যান্ড কালেকশন অ্যাকাউন্ট নম্বর’ বা সংক্ষেপে ‘TAN’ থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে আয়কর দপ্তরের ডিজিটাল নজরদারি এতটাই তুঙ্গে যে, এই নম্বর ছাড়া টিডিএস সংক্রান্ত কোনও লেনদেন করলে তা সরাসরি দপ্তরের নজরে চলে আসছে।
কেন এই কড়াকড়ি? আয়কর দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, “ট্যান নম্বর ছাড়া টিডিএস কাটা বা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আইনত অসিদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছোট ব্যবসায়ী বা পেশাদাররা টিডিএস কাটলেও ট্যান নম্বরের গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। কিন্তু আয়কর আইন ১৯৬১-র ধারা ২০৩এ অনুযায়ী, টিডিএস এবং টিসিএস (TCS)-এর ক্ষেত্রে এই ১০ সংখ্যার আলফানিউমেরিক নম্বরটি থাকা আবশ্যক।”
জরিমানার অংক শুনলে পিলে চমকে যাবে: যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্যান নম্বর ছাড়াই টিডিএস কাটেন বা সঠিক নথিতে ট্যান নম্বর উল্লেখ না করেন, তবে আয়কর দপ্তরের ধারা ২৭২বিবি অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই ভুল সংশোধন করা হচ্ছে বা ট্যান নম্বর নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই জরিমানার বোঝা বাড়তে থাকবে।
কীভাবে বাঁচবেন এই বিপদ থেকে?
অবিলম্বে এনএসডিএল (NSDL)-এর অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে ট্যান নম্বরের জন্য আবেদন করুন।
আপনার টিডিএস রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সঠিক ট্যান নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা সিএ (CA) বা ট্যাক্স বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করে নিন।
মনে রাখবেন, প্যান (PAN) এবং ট্যান (TAN) এক জিনিস নয়। ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে ট্যান নম্বর আলাদাভাবে সংগ্রহ করা জরুরি।
আয়কর দপ্তরের এই কঠোর অবস্থান মূলত কর ফাঁকি দেওয়া এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতেই নেওয়া হয়েছে। তাই দেরি না করে আজই আপনার নথিপত্র পরীক্ষা করুন, নাহলে সামান্য গাফিলতি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিতে পারে।





