অষ্টম বেতন কমিশন গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রতীক্ষা দীর্ঘদিনের। ২০২৬-এর এই নির্বাচনী আবহে সেই দাবি আরও জোরালো হলো। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কর্মচারী সংগঠন এবার সরাসরি ভারত সরকারের কাছে তাদের প্রস্তাব পেশ করেছে। যেখানে ন্যূনতম বেতন থেকে শুরু করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট— সবক্ষেত্রেই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।
কী কী দাবি করা হয়েছে?
কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে মূল নজর কেড়েছে নিচের পয়েন্টগুলো:
ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা। দাবি জানানো হয়েছে, অষ্টম বেতন কমিশনে তা বাড়িয়ে সরাসরি ৬৯,০০০ টাকা করা হোক।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: এতদিন বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশ। দাবি করা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে এই হার বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করতে হবে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: বেতন নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৩.৬৮ করার জোরালো দাবি উঠেছে।
কেন এই বিশাল বৃদ্ধির দাবি?
সংগঠনগুলোর যুক্তি, সপ্তম বেতন কমিশনের সময় যে মুদ্রাস্ফীতি ছিল, বর্তমানে তা বহুগুণ বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই বেতন বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষ করে নিচুতলার কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘মেগা স্কেল’ প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন্দ্রের অবস্থান কী?
নয়া দিল্লি সূত্রের খবর, সরকার এখনও অষ্টম বেতন কমিশন গঠন নিয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করেনি। তবে ২০২৬-এর রাজনৈতিক সমীকরণ এবং কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে খুব শীঘ্রই কমিশন গঠন করে রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অঙ্ক কী বলছে: যদি এই দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২.৫ থেকে ৩ গুণ বেড়ে যেতে পারে।





