নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাংলার মনীষীদের ছবি ঘিরে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক তরজা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায় এবং মাদার টেরেসার মতো প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের ছবিতে গেরুয়া আবিরের তিলক পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর নেপথ্যে শোনা যাচ্ছে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘হর হর মোদী’ স্লোগান।
আশুতোষ কলেজে ‘সাংস্কৃতিক আঘাত’?
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আশুতোষ কলেজে। তাদের দাবি, আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP) জোরপূর্বক কলেজে ঢুকে মনীষীদের ছবিতে গেরুয়া টিকা পরিয়ে বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান করেছে। শাসকদলের স্পষ্ট বার্তা, বিজেপি উত্তর ভারতের সংস্কৃতি জোর করে বাংলার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিদ্যাসাগর থেকে সত্যজিৎ রায়—কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছে না এই ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ থেকে।
তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ
এই ঘটনা নিয়ে এক্স (পুরানো নাম টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পোস্টে লেখা হয়েছে, “বিজেপি বাংলার আত্মা, বিবেক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। যাঁরা মানবতা ও প্রগতির মাধ্যমে বাংলার ইতিহাস গড়েছেন, তাঁদের প্রতি এই আচরণ চরম অসম্মানজনক। ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার এই সংস্কৃতি বাংলার পরিচয় নয়। মানুষ এই ঘটনা ভুলবে না।”
.@BJP4Bengal unit is truly proving to be a puppet of @BJP4India!
Defacing the images of Raja Ram Mohan Roy and Mother Teresa is not merely an act of vandalism, it is a direct insult to the very soul, conscience, and cultural legacy of Bengal.
It exposes the complete absence of… pic.twitter.com/BfuBgzbgFl
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) May 7, 2026
পাল্টা চাপানউতোর
বিজেপি বা এবিভিপি-র পক্ষ থেকে এই ভিডিও নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির জয়ের পর থেকেই একের পর এক কলেজ দখল করার চেষ্টা করছে এবিভিপি। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠনের পাল্টা দাবি, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ দীর্ঘকাল ধরে কলেজগুলোতে ‘গুন্ডারাজ’ চালিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হতে দেয়নি। তাই তাদের মুখে নীতি কথা মানায় না।
বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ছবি ঘিরে এই বিতর্ক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি এই ভাইরাল ভিডিওর দায় স্বীকার করে কি না, এখন সেটাই দেখার।





