নির্বাচনী ডিউটির বলি? মেদিনীপুরে বিএলও-র রহস্যমৃত্যু, কমিশনের ‘চাপ’ নিয়ে বিস্ফোরক কন্যা

ভোটের দামামা বাজার আগেই মেদিনীপুরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপে এক বিএলও (BLO)-র আকস্মিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে। মৃতের পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিক ধকল সহ্য করতে না পেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ওই সরকারি কর্মী। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন এলাকায়।

পরিবারের চাঞ্চল্যকর দাবি মৃতের কন্যার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা প্রথম থেকেই বিএলও-র দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য সমস্যার কথা জানিয়ে অব্যাহতি চাইলেও প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি। উল্টে তাঁকে জোর করে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের যে বিপুল লক্ষ্যমাত্রা কমিশন বেঁধে দিয়েছিল, তা পূরণ করতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তিনি তীব্র মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।

কাজের চাপে নাজেহাল কর্মীরা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই বিএলও-দের ওপর কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আপলোড করা থেকে শুরু করে অফলাইন ফর্ম জমা দেওয়া—সব মিলিয়ে বিরামহীন পরিশ্রম করতে হচ্ছে নিচুতলার এই কর্মীদের। মৃতের পরিবারের সদস্যদের মতে, “সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর বাড়ি ফিরেও তাঁকে অফিসের ফোন ধরতে হতো। এই চাপ নেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁর ছিল না।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া বিএলও-র এই অকাল মৃত্যুতে জেলা প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কাজের চাপের বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। জেলাশাসক দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এটি সরাসরি নির্বাচনী কাজের চাপের ফলে কি না, তা খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।” ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এই ঘটনা ভোট কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy