ভারতীয় গণতন্ত্রের উৎসবে এ যেন এক চরম পরিহাসের চিত্র! যে কর্মচারী সারাদিন বুথে বসে অন্যের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকি করবেন, দিনের শেষে তাঁর নিজের আঙুলেই থাকবে না কোনো কালির দাগ। কারণ, ভোটার তালিকায় তাঁর নামটাই যে নেই! এমনই এক অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন সরকারি কর্মচারী অর্পিতা (নাম পরিবর্তিত)।
ঠিক কী ঘটেছে? নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR (Special Information Revision)-এর তালিকায় তাঁর নাম বাদ পড়েছে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হোক বা প্রশাসনিক গাফিলতি— ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে যাওয়ায় ভোট দেওয়ার আইনি অধিকার হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস হলো, ভোটার হিসেবে তিনি ‘অযোগ্য’ হলেও, কমিশনের কাছে তিনি ‘পোলিং অফিসার’ হিসেবে সম্পূর্ণ যোগ্য!
অর্পিতার আক্ষেপ: অর্পিতা জানিয়েছেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গতবারও ভোট দিয়েছি। এবার ভেবেছিলাম নিজের অধিকার প্রয়োগ করব। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ভোট দিতে পারব না। অথচ আমার নাম এসেছে নির্বাচনী ডিউটিতে। এটা যে কতটা যন্ত্রণার, তা বলে বোঝানো যাবে না। যে ব্যবস্থায় আমি ব্রাত্য, সেই ব্যবস্থার চাকা ঘোরাতে আমাকেই খাটতে হচ্ছে।”
কমিশনের নিয়ম কী বলছে? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী ডিউটি বাধ্যতামূলক। ভোটার তালিকায় নাম না থাকাটা ডিউটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কোনো বৈধ কারণ হতে পারে না। ফলে এক বুক আক্ষেপ নিয়ে একদিকে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েও, অন্যদিকে গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবে বুথে ডিউটি করতে হবে এই সরকারি কর্মীকে।
বিশেষজ্ঞদের মত: এই ঘটনাটি ফের একবার ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক গাফিলতিকে জনসমক্ষে নিয়ে এল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার জেরে অনেক সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেন না, কিন্তু একজন পোলিং অফিসারের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
নিজের ভোট দিতে না পারলেও, অন্যের ভোট শান্তিতে সুসম্পন্ন করানোই এখন অর্পিতার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।





