২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটালেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। বুধবার কলকাতায় পা রেখে প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র সঙ্গে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল ‘মিম’ (AIMIM)। এই জোট কেবল ভোট কাটাকাটির জন্য নয়, বরং রাজ্যে মুসলিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে বলে দাবি মিম প্রধানের।
মমতাকে তোপ: ‘মুসলিমদের কেবল ব্যবহার করেছে তৃণমূল’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে এদিন উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওয়েইসি। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজ্যে মুসলিমদের ক্ষমতায়নের জন্য তৃণমূল কোনো কাজই করেনি। শুধু ভোটের স্বার্থে এই সমাজকে ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে সংখ্যালঘু নেতা নেই, সেখানে মানুষের দুর্দশা ঘোচানো সম্ভব নয়।” তাঁর দাবি, এই জোট আগামী দিনেও অটুট থাকবে।
বাবরি মসজিদ ও ধর্মীয় ভাবাবেগ
সাংবাদিক বৈঠকে বাবরি মসজিদ এবং মসজিদের নামকরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কড়া জবাব দেন ওয়েইসি। তিনি বলেন:
-
পবিত্রতা: “প্রতিটি মসজিদ মুসলিমদের কাছে ততটাই পবিত্র, যতটা মন্দির হিন্দুদের বা গির্জা খ্রিস্টানদের কাছে।”
-
কোরানের শিক্ষা: “কোরানে স্পষ্ট বলা আছে, আল্লাহর ঘর তৈরি করা প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কর্তব্য।”
-
নামকরণ বিতর্ক: মসজিদের নাম ‘বাবরি’ রাখা নিয়ে আপত্তির জবাবে তাঁর প্রশ্ন, “আমরা কী খাব, কী পরব বা কী নাম রাখব—তা কি অন্য কেউ ঠিক করে দেবে?”
হুমায়ুনের প্রতীক ‘বাঁশি’
এদিনের বৈঠক থেকে জোটের লড়াইয়ের সুর বেঁধে দেন হুমায়ুন কবীরও। তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে তাঁর দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ ‘বাঁশি’ (Whistle) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামবে। তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে মিম-এর সঙ্গে আসন সমঝোতার সূত্রও প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি।