নাগরিকত্ব নিয়ে এবার ‘মোদির গ্যারান্টি’! ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে মমতাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রীর

উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের পুণ্যভূমি থেকে মতুয়া ও শরণার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বহু মতুয়া নাগরিকের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে কার্যত প্রলেপ দিয়ে মোদি এদিন স্পষ্ট করলেন— “মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদানই মোদির গ্যারান্টি।”

নাগরিকত্বই শেষ কথা: কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
এদিনের জনসভা থেকে মোদি বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, মতুয়ারা কারও দয়ার পাত্র নন। তাঁর কথায়:

“দেশের প্রতিটি মতুয়া, উদ্বাস্তু ও শরণার্থীকে পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। একজন ভারতীয় নাগরিক যে যে সাংবিধানিক অধিকার পান, মতুয়ারাও তার সবকটি পাবেন। ভারত সরকার আপনাদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার দেবে।”

সিএএ নিয়ে মমতাকে তোপ
তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই সিএএ (CAA)-র বিরোধিতা করে আসছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদি এদিন ভোটারদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল সিএএ লাগু করতে বারবার বাধা দিচ্ছে। যারা আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের ভোট দিলে আপনারা নিজেদের পূর্বপুরুষদেরই দুঃখ দেবেন।” উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ঠাকুরবাড়িতে বড়মার আশীর্বাদ নেওয়া এবং বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে মতুয়া মন্দিরে যাওয়ার স্মৃতিও এদিন রোমন্থন করেন তিনি।

মতুয়াদের ক্ষোভ ও এসআইআর বিতর্ক
সম্প্রতি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ফলে বনগাঁ মহাকুমার একাধিক বিধানসভায় হাজার হাজার মতুয়া ভোটাধিকার হারিয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের আগে এই ক্ষোভ প্রশমন করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই ‘গ্যারান্টি’ কার্ড খেলা।

অতীতের নীরবতা ও বর্তমানের আশ্বাস
গত বছরের ডিসেম্বরে রানাঘাটের ভার্চুয়াল সভায় মতুয়াদের নিয়ে কোনো কথা না বলায় মোদিকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এদিন ঠাকুরনগরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে বিজেপি বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে রাজি নয়।

বিজেপির এই ‘নাগরিকত্ব কার্ড’ বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy