প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি বা বিবাদের কথা আকছার শোনা যায়। কখনো পার্কিং নিয়ে, কখনো বা ফ্ল্যাটের আবর্জনা ফেলা নিয়ে তুমুল অশান্তি তৈরি হয়। কিন্তু তাই বলে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে সোজা থানায় মরা ইঁদুর নিয়ে হাজির হওয়া— এমন আজব কাণ্ড বোধহয় আগে কখনো শোনেনি কেউ। উত্তর প্রদেশের নয়ডার একটি হাইরাইজ সোসাইটিতে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলার জেরে এক মহিলা একটি মৃত ইঁদুরকে পলিথিনে প্যাক করে সোজা নিয়ে গেলেন পুলিশ চৌকিতে। এই দৃশ্য দেখে থানায় ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদেরও চোখ চড়কগাছ।
নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানা এলাকার সেক্টর-১৩৪-এর জেপি কসমস সোসাইটির এই ঘটনায় এখন হুলুস্থুল কাণ্ড আবাসন জুড়ে। রসিক নেটিজেনরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ‘র্যাট ওয়ার’ বা ইঁদুর যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
থানায় ‘খুনের প্রমাণ’ নিয়ে হাজির তরুণী!
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেপি কসমস সোসাইটির বাসিন্দা ওই তরুণী নিজেকে একজন পশু-পাখি প্রেমী বলে দাবি করেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর ফ্ল্যাটের ঠিক বাইরে কেউ বা কারা মরা ইঁদুর ফেলে রেখে যাচ্ছিল। শনিবার সকালে আবারও নিজের ফ্ল্যাটের সামনে একটি মরা ইঁদুর পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এতেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই তরুণী। তাঁর স্পষ্ট সন্দেহ, পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীই তাঁকে মানসিক হেনস্থা করতে এবং ভয় দেখাতে ইচ্ছে করে ইঁদুরটি মেরে তাঁর দরজার সামনে ফেলে গেছে।
আর কোনো কিছু না ভেবে, তিনি একটি টিস্যু পেপার ও পলিথিন ব্যাগে সেই মরা ইঁদুরটিকে সাবধানে প্যাক করেন। এরপর সোজা চলে যান সেক্টর-১২৯-এর পুলিশ চৌকিতে। সেখানে ডিউটি অফিসারদের সামনে পলিথিন ব্যাগ থেকে মরা ইঁদুরটি বের করে তিনি বলেন, “এই দেখুন আমার প্রতিবেশীর নোংরামির অকাট্য প্রমাণ! এর একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।”
ভ্যাবাচ্যাকা খেল পুলিশ, থানায় হাসির রোল
থানায় উপস্থিত পুলিশকর্মীরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে ঠিক কী অভিযোগ লেখা হবে। কোনো মানুষ খুনের মামলা বা চুরির অভিযোগের বদলে খোদ মরা ইঁদুরকে ‘প্রমাণ’ হিসেবে থানায় পেশ করায় হতভম্ব হয়ে যান সকলে। থানায় আসা অন্যান্য সাধারণ মানুষও মহিলার এই কাণ্ড দেখে নিজেদের হাসি চেপে রাখতে পারেননি।
পুলিশের পক্ষ থেকে ওই তরুণীকে বোঝানো হয় যে, যেকোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা তদন্ত শুরু করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর (FIR) দায়ের করা জরুরি। এভাবে মরা ইঁদুর থানায় এনে রাখলে কোনো সমাধান হবে না। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পর পুলিশ অবশ্য ওই তরুণীকে শান্ত করে বাড়ি ফেরত পাঠায়।
সোসাইটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘র্যাট ওয়ার’
থানায় মরা ইঁদুর নিয়ে যাওয়ার এই খবরটি চাউর হতেই জেপি কসমস সোসাইটির আবাসিকদের নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে চর্চার ঝড় উঠেছে। কেউ লিখেছেন, “সোসাইটিতে চোরের উপদ্রব শুনেছি, ইঁদুর নিয়ে এত বড় যুদ্ধ এই প্রথম দেখলাম।” আবার কেউ কেউ ঠাট্টা করে লিখেছেন, “এবার থেকে ফ্ল্যাটের বাইরে বেরোনোর আগে সিসিটিভি ক্যামেরা নয়, ইঁদুর-ফাঁদ চেক করতে হবে।” এক্সপ্রেসওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে প্রতিবেশীদের ডেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।





