“নন্দীগ্রাম দেখে নিন, আমি ভবানীপুর সামলাচ্ছি”-মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর!

বিধানসভা নির্বাচনের পারদ সপ্তমে চড়িয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে থাবা বসানোর হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নন্দীগ্রামের মাটি থেকে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমি ভবানীপুর সামলাচ্ছি। আপনারা নন্দীগ্রাম দেখে নিন।”

মেদিনীপুরের রক্ত, মাথা নোয়াব না! এদিন শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল খাঁটি মেদিনীপুরের আবেগ। ১৯৪২-এর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা ৪৭-এ স্বাধীনতা পাইনি, ৪২-এই পেয়েছিলাম। সতীশবাবুর উত্তরসূরি আমি, ঝোঁকার পাত্র নই।” সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামাজ পড়তে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তিনি নিজে কালীঘাটে গিয়ে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এসেছেন।

৩০০০ টাকার বড় প্রতিশ্রুতি কেবল আক্রমণ নয়, ভোট বৈতরণী পার হতে বড়সড় আর্থিক প্রতিশ্রুতিও দিলেন শুভেন্দু। তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ১ জুন থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে। রামনগর ও পটাশপুরের কর্মীসভা থেকেও একই সুর শোনা যায় তাঁর গলায়।

আরও (RO) বিতর্ক ও ‘গদ্দার’ তকমা ভবানীপুরের নতুন রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের আপত্তির কড়া জবাব দিয়েছেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করায় পাল্টাতে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গদ্দার হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব গান্ধী, সুব্রত মুখোপাধ্যায় থেকে অটল বিহারী বাজপেয়ী—সবার সঙ্গেই তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।” শুভেন্দুর সাফ কথা, “নন্দীগ্রামের মানুষের আত্মবলিদান না থাকলে উনি দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন, মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না।”

এদিন আত্মবিশ্বাসের সুরে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ১৭৭টি আসন দখল করে সরকার গড়বে। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই কেন্দ্রকে ঘিরে যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হলো, তা বাংলার ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy