প্রতিকূল প্রকৃতি আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডাকে হারিয়ে অবশেষে জয়ী ভারতীয় সেনার ‘ত্রিশক্তি কোর’। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও প্রবল তুষারপাতে উত্তর সিকিমের লাচেন ও চুংথাংয়ের মাঝে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকে পড়েছিলেন কয়েকশো পর্যটক। তাঁদের উদ্ধার করতে সেনার বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন হিম সেতু’ বৃহস্পতিবার পূর্ণ সাফল্য পেল।
কীভাবে চলল এই রুদ্ধশ্বাস অপারেশন? গত কয়েকদিন ধরে সিকিমের পাহাড়ি রাস্তায় ধস ও বরফ জমে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO) দিনরাত কাজ করেও মূল রাস্তা খুলে উঠতে পারছিল না। পর্যটকদের বাঁচাতে বিকল্প উপায় বের করে সেনা:
অস্থায়ী ফুটব্রিজ: তারাম চু নদীর ওপর একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ তৈরি করে পর্যটকদের ধাপে ধাপে পার করানো হয়।
১০০০ জন উদ্ধার: এদিন দুপুর পর্যন্ত ১০০০-এরও বেশি পর্যটককে সুরক্ষিতভাবে গ্যাংটকের পথে পাঠানো হয়েছে।
বিশেষ ব্যবস্থা: দুর্গম চড়াইয়ে আটকে পড়া গাড়িগুলোকে টেনে তুলতে সেনার বিশেষ ‘রিকভারি ভেহিকেল’ ব্যবহার করা হয়।
তদারকিতে খোদ মন্ত্রী পুরো উদ্ধারকাজ সরাসরি তদারকি করেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী সামদুপ লেপচা। তাঁর সঙ্গে মঙ্গনের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। চুংথাং পাবলিক গ্রাউন্ড থেকে পর্যটকদের গ্যাংটকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ বাস ও ট্যাক্সির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসুস্থ পর্যটকদের জন্য রাখা হয়েছিল স্পেশাল মেডিক্যাল টিম।
সেনার বার্তা অপারেশন শেষে এক সেনা আধিকারিক গর্বের সঙ্গে বলেন, “নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। আবহাওয়া চরম প্রতিকূল থাকলেও আমাদের জওয়ানরা এক মুহূর্তের জন্য কাজ থামাননি।”
বর্তমানে লাচেনে আটকে থাকা সমস্ত পর্যটক গ্যাংটকের পথে রওনা দিয়েছেন। তবে ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে এখনও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন, যাতে সড়ক যোগাযোগ দ্রুত ও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা যায়।





