পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আলু তোলার ব্যস্ততা, কিন্তু কৃষকদের মুখে হাসির বদলে বিষণ্ণতার ছাপ। জেলার অর্থকরী ফসল আলু চাষ করে এবার কার্যত ‘ভিখারি’ হওয়ার উপক্রম কৃষকদের। গড়বেতা থেকে চন্দ্রকোনা— সর্বত্র একই ছবি। নতুন পোখরাজ আলু বাজারে এলেও তার দাম মিলছে না। কৃষকদের অভিযোগ, হিমঘরে পড়ে থাকা পুরনো আলুর জেরেই মার খাচ্ছে নতুন ফলন।
ক্ষতির অংক ও কৃষকদের হাহাকার: জেলায় ৯২টি হিমঘর থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু জায়গায় এখনও পুরনো আলুর মজুত রয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে নতুন আলুর চাহিদা তলানিতে। বর্তমানে ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজার দরে সেই আলু বিক্রি করে বিঘায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মার খাচ্ছে ভিনরাজ্যের বাজার: একটা সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের আলু বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের বাজার দখল করে রাখত। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। উত্তরপ্রদেশের নতুন আলু প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর বাজার দখল করে নেওয়ায় বাংলার আলুর চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সভাপতি মুকুল ঘোষ স্বীকার করেছেন, বাজারে নতুন আলু এলেও চাহিদার অভাবে দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি: রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার সুবিধা পৌঁছাচ্ছে না বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কৃষকরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সরকার হস্তক্ষেপ না করলে ঋণের দায়ে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।