শপথ নেওয়ার পরেই পূর্ণ ‘অ্যাকশন মোডে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভাকে নিয়ে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সারলেন তিনি। আর প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ঝুলি উপুড় করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘বিরাট ৬’ সিদ্ধান্ত নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর জমানায় প্রশাসনের কাজের গতি হবে ঝোড়ো। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, আগের সরকারের চালু করা জনপ্রিয় প্রকল্পগুলি নিয়ে যে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল, তা এক লহমায় উড়িয়ে দিলেন তিনি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্য সাথী কি বন্ধ হচ্ছে? নির্বাচনের সময় থেকেই বিরোধীরা প্রচার চালিয়েছিল যে বিজেপি সরকার এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্য সাথীর মতো প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। এদিন ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের সরকারের চালু করা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হচ্ছে না। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্য সাথী আপাতত বহাল থাকছে। উল্টে আজ থেকেই রাজ্যে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রের মোদী সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’। ফলে একদিকে রাজ্যের সুবিধা এবং অন্যদিকে কেন্দ্রের সুরক্ষা— দুই মিলিয়ে কার্যত ডাবল সুবিধা পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের উর্ধবসীমায় ৫ বছর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে যারা নিয়োগের অপেক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও আইনি সংস্কার রাজ্যের সীমান্ত এলাকাকে নিশ্ছিদ্র করতে বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, এদিন থেকেই রাজ্যে সংবিধান মেনে কার্যকর করা হলো ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)।
মুখ্যমন্ত্রীর ‘বিরাট ৬’ সিদ্ধান্তের একঝলক:
সামাজিক প্রকল্প: বন্ধ হচ্ছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্য সাথী।
আয়ুষ্মান ভারত: আজ থেকেই রাজ্যে কার্যকর কেন্দ্রের ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা।
উজ্জ্বলা যোজনা: গরিব পরিবারের জন্য কেন্দ্রের বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ প্রকল্প চালু।
চাকরিতে ছাড়: সরকারি চাকরির বয়সে ৫ বছরের বিশেষ ছাড় ঘোষণা।
সীমান্ত জমি: বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু, ডেডলাইন ৪৫ দিন।
নতুন আইন: আজ থেকেই রাজ্যে বলবৎ হলো ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)।
প্রথম দিনের বৈঠকেই যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের মেলবন্ধন ঘটালেন, তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা— প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা এবং গতি আনাই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের পকেটে টান না দিয়ে বরং বাড়তি সুবিধার ডালি সাজিয়ে ইনিংস শুরু করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।





