ধর্ম নয়, ভোট হবে কর্মে! রাইনার মঞ্চ থেকে মোদি সরকারকে তুলোধনা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর প্রচারের ময়দানে নেমে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বর্ধমানের রাইনার শ্যামসুন্দর কলেজ মাঠে তৃণমূল প্রার্থী মন্দিরা দলুইয়ের সমর্থনে এক জনসভায় যোগ দিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তিনি। অভিষেকের সাফ দাবি, ২০২১-এর মতো ফের বর্ধমানের ফল ১৬-০ হওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

ধর্ম নয়, কর্মই শেষ কথা: এদিনের সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন যে তৃণমূল বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, “লড়াই ধর্মের ভিত্তিতে নয়, লড়াই হবে কর্মের ভিত্তিতে।” বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে তাঁর বার্তা, তৃণমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চায়, আর বিজেপি চায় সাধারণ মানুষের চোখে জল। সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

গ্যাস বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির কড়া সমালোচনা করে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, ইউপিএ সরকারের সময় যে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ৪০০ টাকা, আজ তা ১০০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, রাইনা এলাকায় ৯১ হাজার মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছেন, ৬৬ হাজার কৃষক পাচ্ছেন ‘কৃষকবন্ধু’র সুবিধা। গত দু’বছরে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছে। অভিষেকের প্রতিশ্রুতি, নতুন সরকার গড়লে রাইনায় একটি কোল্ড স্টোরেজ ও একটি ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন তৈরি করা হবে।

মোদি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ: অভিষেক অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার বাংলার গোবিন্দভোগ চালের রফতানি বন্ধ করে দিয়ে কৃষকদের পেটে লাথি মেরেছে। নোটবন্দি থেকে শুরু করে গ্যাসের লাইন— সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই মোদি সরকারের লক্ষ্য। তৃণমূল নেতার হুঙ্কার, “৪ মে ভোটের ফলাফলে পদ্মফুলের বাবুদের চোখে সর্ষে ফুল দেখিয়ে দেবে বাংলার মানুষ।” ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূল এখানে ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল, এবার জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজার পার করবে বলে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy