দেশে ফিরলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে কি বড় আন্দোলনের ঢেউ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি ভারতের মাটিতে পা রাখলেন বহুলচর্চিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা আরশোলা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর ভারত আগমন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তজনা তুঙ্গে ছিল। আজ সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে ভারতে পৌঁছানোর খবর নিজেই নিশ্চিত করেন তিনি। একইসঙ্গে, রাজধানীর যন্তর মন্তরে তাঁর সমর্থকদের জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিজিৎ দীপকে-র এই আগমনকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে।

নিজের এক্স পোস্টে দীপকে সমর্থকদের উদ্দেশে লিখেছেন, “একটি বই এবং আমাদের তেরঙা সঙ্গে নিতে ভুলবেন না! পুলিশ কর্মীদের প্রতি সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আমাদের এই অহিংস আন্দোলনকে ভালোবাসা ও শান্তির সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” মূলত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই ৬ জুন এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে উত্তাল দেশের ছাত্রসমাজ, আর সেই ইস্যুকেই প্রধান হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছেন দীপকে।

উল্লেখ্য যে, গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে পরীক্ষার অনিয়ম সংক্রান্ত একটি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কিছু ব্যক্তিকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যেরই ব্যঙ্গাত্মক এবং প্রতিবাদী প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ডিজিটাল সংগঠনটি জন্ম নেয়। তবে মজার বিষয় হলো, ব্যঙ্গ থেকে শুরু হওয়া এই সংগঠনটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সংগঠিত প্রচারণার রূপ নিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে এই সংগঠনের ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা এখন ২২ মিলিয়নেরও বেশি, যা ভারতের অনেক প্রথাগত রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতির চেয়েও বহুগুণ বেশি।

অভিজিৎ দীপকে-র এই নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তিনি যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মকে এক ছাতার তলায় এনেছেন, তা বর্তমান ভারতীয় রাজনীতিতে বিরল। আজ যন্তর মন্তরে তাঁর এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে কতটা ভিড় হয় এবং প্রশাসনিক স্তরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে এই আন্দোলন কি আরও বৃহত্তর রূপ নেবে, না কি তা কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার চমক হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy