মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম দিল্লি সফরে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাজ্যের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে রাজধানীতে পৌঁছেছেন তিনি। গত বুধবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
আজ সকাল থেকেই একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ঠাসা সূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। দিনের শুরুতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা তাঁর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা। গত বুধবারই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে মোদি সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে যে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর, তা এই বৈঠকের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। বিগত দিনের নিরাপত্তার গাফিলতি কাটিয়ে কীভাবে সীমান্ত এলাকাকে সুরক্ষিত করা যায়, তা নিয়েই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিশদ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আজকের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বিকেল সাড়ে চারটেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সাক্ষাতে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে যে দীর্ঘসূত্রতা এবং আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠত, নতুন সরকারের আমলে তা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে, এই বৈঠকে রাজ্যের জন্য কেন্দ্রের বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ বা বরাদ্দের কথা উঠে আসতে পারে, যা বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফর প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভালর জন্যই সবকিছু করা হচ্ছে। আমাদের সরকার কোনো মেলা-মোচ্ছবের সরকার নয়, এটি প্রকৃত অর্থে পশ্চিমবঙ্গবাসীর সরকার। রাজ্য সরকার হিসেবেই তারা কাজ করবে এবং আগের সরকারের ঘোষণা সর্বস্ব নীতির বদলে গঠনমূলক কাজের ওপর জোর দেবে।” সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লি সফর বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই আশা রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।





