দিল্লির মালভিয়া নগরের লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় ৩ জুনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২১ জনের মৃত্যুর এই ঘটনায় হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা ছয় ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, বৈদ্যুতিক চুলা চালু করতেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে সে হোটেলের মূল পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের তদন্তে হোটেলের চরম নিরাপত্তা গাফিলতির নগ্ন চিত্র উঠে এসেছে। মাত্র ৬টি কক্ষের অনুমতি থাকলেও হোটেলটিতে অবৈধভাবে ২৫টির বেশি কক্ষ চালানো হচ্ছিল। দমকল বিভাগের বাধ্যতামূলক ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) ছিল না তাদের। ভবনে প্রবেশের জন্য মাত্র একটি পথ ছিল এবং জানালাগুলো ছিল স্থায়ীভাবে বন্ধ। অগ্নিকাণ্ডের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ইলেকট্রনিক লকগুলো অকেজো হয়ে পড়ে, যার ফলে বহু অতিথি তাদের কক্ষেই আটকা পড়ে দমবন্ধ হয়ে মারা যান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল বাথরুমের ভেতর স্বামী-স্ত্রীর জড়াজড়ি করা দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে, যা হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি করেছিল। সরকারি বিধিনিষেধ না মেনে এই ধরনের মৃত্যুফাঁদ তৈরি করার ফলে কতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে গেল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে দেশজুড়ে।





