কোচবিহারের দিনহাটার এক বাসিন্দাকে অসম সরকারের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ সংক্রান্ত নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এটিকে গণতন্ত্রের ওপর ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ এবং ‘বিজেপির বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সম্প্রতি দিনহাটার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসী অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের একটি নোটিস পান। ওই নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে যে, উত্তমকুমার ব্রজবাসী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর কোনো বৈধ নথি ছাড়াই অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। অথচ, উত্তমকুমার ব্রজবাসী এবং তার পরিবার দাবি করেছেন যে, তিনি গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের, বিশেষত কোচবিহারের দিনহাটার স্থায়ী বাসিন্দা। তার কাছে সমস্ত বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া পোস্ট করেন। তিনি লেখেন:
“দিনহাটার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে NRC-র নোটিস দিয়েছে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলার বাসিন্দা এই মানুষটি। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে হেনস্থা করা হচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের ওপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, “অসমের বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে NRC চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।” তার মতে, এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানোর এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি পূর্ব পরিকল্পিত চক্রান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ‘অসাংবিধানিক আগ্রাসন’কে বিজেপির ‘বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, “বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।”
বিরোধী ঐক্যের আহ্বান:
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত বিরোধী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং বিজেপির ‘দমনপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন:
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের একটি ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সীমান্তবর্তী জেলা কোচবিহারে নাগরিকত্ব এবং অনুপ্রবেশের বিষয়টি বরাবরই একটি সংবেদনশীল ইস্যু। অসমের বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ এবং তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের এক বাসিন্দার হয়রানি, আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর আরও বাড়বে।





