নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ওপর তৃণমূলের অতি-নির্ভরশীলতা কি দলের হারের নেপথ্যে বড় কারণ? হারের ধাক্কা সামলে উঠে এবার এমনই এক বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্য বজায় রেখেই তিনি এবার সরব হয়েছেন দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি এবং আইপ্যাক-এর কার্যকারিতা নিয়ে।
তৃণমূলের অন্দরের এই ময়নাতদন্তে ঋজু দত্ত সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন আইপ্যাক-কে। তাঁর দাবি, শীর্ষ নেতৃত্ব অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাক-এর দেওয়া তথ্যের ওপর ‘অন্ধের মতো’ ভরসা করেছিলেন। আর এই অতিরিক্ত নির্ভরতাই কাল হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তৃণমূলের এই যুব নেতার স্পষ্ট কথা, মাটির মানুষের স্পন্দন অনুভবের বদলে ডাটা ও অ্যালগরিদমের ওপর ভরসা করে রণনীতি সাজানো সব সময় সফল হয় না।
ঋজু দত্তের কথায় উঠে এসেছে দলের পুরনো কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়ও। তিনি মনে করেন, আইপ্যাক-এর ছক কষে দেওয়া ফর্মুলা মানতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্য ও পুরনো কর্মীদের দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ব্যালট বক্সে। ঋজু সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “দিদি এবং অভিষেকদা অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছেন আইপ্যাক-কে। কিন্তু তৃণমূল এমন একটা দল যা মানুষের আবেগের ওপর ভিত্তি করে চলে, কোনও কর্পোরেট সংস্থার মডেলে নয়।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋজু দত্তর এই মন্তব্য দলের ভেতরের এক দীর্ঘকালীন চাপা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে আইপ্যাক-এর হাতে সংগঠনের রাশ তুলে দেওয়ার বিষয়টি দলের একাংশ কোনোদিনই ভালো চোখে দেখেনি। এবার হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সেই ক্ষোভই আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে এল।
যদিও এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ঋজু দত্তর এই সাহস এবং সরাসরি নেতৃত্বকে দেওয়া ‘সতর্কবার্তা’ তৃণমূলের অন্দরে যে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আইপ্যাক-এর ‘ডাটা-চালিত রাজনীতি’ বনাম তৃণমূলের ‘আবেগ-নির্ভর রাজনীতি’—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত দলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





