সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় গোটা দেশ যখন সরব, ঠিক তখনই দলের অন্দরের এক ‘লজ্জাজনক’ ছবি সামনে আনলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দলের জাতীয়স্তরের নেতাদের ফোন ও বার্তা পেলেও, নিজের দলের অধিকাংশ সাংসদ, বিধায়ক ও পদাধিকারীদের এই ঘটনায় নীরবতা দেখে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন তিনি।
নেতাদের ‘নীরবতা’ নিয়ে কুণালের তোপ শনিবার রাতে অভিষেক আক্রান্ত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাসপাতালের সামনে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেও, দলের বড় অংশের নেতাদের সক্রিয়তা ছিল তলানিতে। এই প্রেক্ষিতেই কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “অভিষেকের ওপর হামলার প্রতিবাদে অন্য দলের জাতীয়স্তরের নেতাদের পোস্ট দেখলাম। কিন্তু আমাদের দলের বহু সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, পদাধিকারী ও প্রাক্তন সরকারি পদাধিকারীদের পোস্ট নজরে পড়ল না।”
কাদের নিশানা করলেন কুণাল? কুণাল ঘোষের এই আক্রমণ সরাসরি দলবদলু বা ‘সুযোগসন্ধানী’ নেতাদের দিকেই ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “দাদা, অনুগামী, বস, ভিডিও, সেলফি—এদের একাংশ আজ কোথায়?” কুণালের মতে, সরকার যদি তৃণমূলের থাকে, তবেই এঁদের বোলচাল একরকম হয়। কিন্তু বিপদের দিনে এঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি আক্ষেপ করে লেখেন, “কারা দলের মঞ্চ ভাঙিয়ে নিজের কাজ করে গেল, এখন তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।”
তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা উল্লেখ্য, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার কালীঘাটে মমতার ডাকা বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিতি দলটির অন্দরে বিভাজনের জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের ভেতরে থাকা ‘সমান্তরাল গোষ্ঠী’ বা ‘সুযোগসন্ধানী’দের মুখোশ খুলে দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন, তখন নেতাদের এই ‘নীরবতা’ আদতে কি দলের প্রতি অনাস্থা? এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির করিডোরে ঘোরাফেরা করছে।





