ক্ষমতার মসনদ হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যেন ভাঙনের সুর। একের পর এক নেতা, সাংসদ, বিধায়ক ও কাউন্সিলররা দল ছাড়ছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনার শেষ নেই। তৃণমূলের এই প্রবল সংকটের মুহূর্তে, অস্তিত্ব রক্ষার শেষ চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার রাজপথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোণঠাসা মমতা: নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ প্রতিকূল হয়েছে তৃণমূলের জন্য। তৃণমূলের অন্দরে এখন কেবল নেতার অভাব নয়, বরং দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোই সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় বিধায়কদের বড় অংশই বর্তমানে নেত্রীর নির্দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে নিজের দলকে পুনর্গঠিত করা এবং জনভিত্তি ধরে রাখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হকারদের ঢাল করে নতুন কৌশল? দলীয় নেতাদের বড় অংশের অনুপস্থিতিতে, এদিন ধর্মতলায় হকার উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে নেত্রীর উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতার অভাবে জর্জরিত তৃণমূল বর্তমানে সাধারণ মানুষের আবেগ ও হকারদের ইস্যুকে সামনে রেখে আবারও জনসম্পর্ক গড়ে তোলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই: একদিকে যখন দলের শীর্ষ সারির নেতারা একে একে দল ছাড়ছেন বা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘রাস্তায় নামা’ আসলে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর একটি শেষ চেষ্টা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু বিধায়ক-সাংসদদের অনুপস্থিতি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার এই ছবি তৃণমূলের জন্য যে অশনি সংকেত, তা বলাই বাহুল্য।
তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন হারানো রাশ পুনরায় নিজের হাতে তুলে নিতে? নাকি দলত্যাগের এই মিছিলে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে—সেই উত্তরই এখন সময়ের অপেক্ষায়।





