তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন ভাঙনের সুর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিধানসভার পরিষদীয় দলের সাম্প্রতিক বৈঠকে বিধায়কদের ব্যাপক অনুপস্থিতি এবং পরবর্তীতে দুই বিদ্রোহী বিধায়কের বহিষ্কারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিকে এক চরম অস্থিরতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দলের অন্দরে ছড়িয়ে পড়া অবিশ্বাসের পরিবেশ ঘোচাতে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে দলের তিন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য নেতা কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং দোলা সেনকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংকটের মূল সূত্রপাত গত রবিবারের পরিষদীয় দলের বৈঠকে। দলের মোট আশিজন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন, যা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে। বাকি ৬০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি দলের অন্দরে বিভাজনের জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত আড়াআড়ি ফাটলের মুখে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিড়ম্বনা আরও বেড়েছে সই জাল করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ তুলেছেন যে, দলের একাংশ তাঁদের সই নকল করে দলবিরোধী কাজ চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরেই নড়েচড়ে বসে নবান্ন। সাংবাদিক বৈঠকের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করা হয়। এই তড়িঘড়ি নেওয়া সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে দলের ফাটল যে কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা-ও প্রমাণ করে।
এই ত্রিমুখী সংকটে—বিধায়কদের অনুপস্থিতি, সই জাল সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বহিষ্কারের ঘটনা—তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে কোণঠাসা। এই ডামাডোলের কারণেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পূর্বনির্ধারিত ধরনা কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রেখে নিজেদের ঘর গোছানোতেই বেশি মনোযোগী হয়েছেন। কুণাল, মদন এবং দোলার মতো ‘ক্রাইসিস ম্যানেজারদের’ নিয়ে এই শলাপরামর্শ থেকে আগামী দিনে তৃণমূল কোনো বিশেষ কৌশল নেয় কি না, অথবা বিদ্রোহকে পুরোপুরি দাবিয়ে রাখতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত এই ড্যামেজ কন্ট্রোল অপারেশনের ওপরই নির্ভর করছে।





