কল্যাণী এইমসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানের পর আজ বিকেলে সপরিবারে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পুজো দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মায়ের হাত থেকে ফুল গড়িয়ে পড়ার ঘটনাটিকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে গোটা দক্ষিণেশ্বর জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আজ সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মুকে নিয়ে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে প্রবেশ করেন। এর আগে মন্দিরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে দুপুর বারোটার পর থেকে মন্দিরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গঙ্গায় ভারতীয় নৌসেনার কড়া টহল ছিল দিনভর।
মন্দিরে প্রবেশ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধূপ-প্রদীপ জ্বেলে ভবতারিণী মায়ের আরতি করেন। এই সময় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। মায়ের হাত থেকে একটি ফুল গড়িয়ে পড়ে, যা দেখে রাষ্ট্রপতি আপ্লুত হন এবং সেটিকে আশীর্বাদ হিসাবে চেয়ে নেন। তার মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মুও হাতের একটি আংটি মায়ের চরণে ছুঁয়ে নেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে মানপত্র, বই, ভবতারিণী মায়ের ছবি এবং মন্দিরের ছবি তুলে দেওয়া হয়। প্রায় আধঘণ্টা মন্দিরে কাটানোর পর রাষ্ট্রপতি তার পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদও দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন। দীর্ঘ বছর পর বর্তমান রাষ্ট্রপতির এই মন্দিরে আগমনকে ঘিরে সকলে উচ্ছ্বসিত।
দক্ষিণেশ্বর অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “মাকে প্রদীপ, ধূপ জ্বেলে আরতি করেছেন, মায়ের চরণে পদ্ম অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আরতির সময় মায়ের হাত থেকে পদ্মের পাপড়ি গড়িয়ে পড়ে। এটি খুবই শুভ। পুজো শেষে সেই ফুল চেয়ে নেন রাষ্ট্রপতি। দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রানি রাসমণি নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও সমাজ সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দু’জনের মধ্যে আমার একটি মিল আমরা দেখতে পাই। আমরা রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করি।”
এই সফরে রাষ্ট্রপতির আগমন কেবল আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে না, বরং দক্ষিণেশ্বরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মর্যাদাকেও নতুন করে তুলে ধরে।





