নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর হাতে সময় মাত্র চার দিন। শেষ মুহূর্তের প্রচারে রবিবাসরীয় বাংলা কাঁপাতে ফের রাজ্যে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিনের প্রথম সভা থেকেই বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তিনি। দুর্নীতি থেকে সিন্ডিকেট রাজ— নাম করে করে কড়া বার্তা দিলেন ‘নমো’।
“থানায় সারেন্ডার করো, নইলে…”
এদিন বড়জোড়ার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন:
“আমি তৃণমূলের সব ভ্রষ্টাচারী, সিন্ডিকেট আর গুন্ডাদের শেষবারের মতো একটা সুযোগ দিচ্ছি। ২৯ এপ্রিলের আগে নিজের নিজের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে নাও। বাঁকুড়ার লোক হলে ২৩ তারিখের মধ্যেই করো। কারণ ৪ মের পর কাউকেই রেয়াত করা হবে না, কেউ বাঁচতে পারবে না।”
বালু-কয়লা-পাথর মাফিয়াদের হুঁশিয়ারি
বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া সংলগ্ন এলাকার বালি, কয়লা এবং পাথরের অবৈধ কারবার নিয়ে এদিন সরব হন মোদী। সরাসরি তোপ দেগে তিনি জানান, সিন্ডিকেটের এই দুর্নীতি আর চলতে দেওয়া হবে না। যারা এই মাফিয়া রাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
আলু চাষিদের জন্য ‘পারমানেন্ট সার্জারি’
বাংলার কৃষি পরিস্থিতি, বিশেষ করে আলু চাষিদের দুরাবস্থা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৃষিমণ্ডিগুলোতে যতদিন তৃণমূলের সিন্ডিকেট থাকবে, ততদিন কৃষকদের শোষণ বন্ধ হবে না। সমাধানের রাস্তা হিসেবে তিনি বলেন, “আপনারা পদ্ম ফুল ফোটান, আর বিজেপি এই সিন্ডিকেটের পারমানেন্ট সার্জারি করবে।”
মহিলা বিল নিয়ে তৃণমূল-কংগ্রেস ‘ষড়যন্ত্র’
সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, তৃণমূল বাংলার মা-বোনদের ধোঁকা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ:
তৃণমূল চায় না বাংলার মহিলারা বেশি সংখ্যায় সাংসদ বা বিধায়ক হয়ে আসুক।
কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে তৃণমূল ষড়যন্ত্র করে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণে বাধা দিচ্ছে।
বাংলার মহিলারা তৃণমূলের ‘মহাজঙ্গলরাজ’কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বলেই শাসকদল ভয় পাচ্ছে।
ভোটের ঠিক আগে মোদীর এই রণংদেহি মেজাজ এবং ‘সারেন্ডার’ করার হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, ৪ মের পর প্রধানমন্ত্রীর এই ‘সার্জারি’ হুঁশিয়ারি বাস্তবের কোন পথে হাঁটে।





