রেলযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর! ভারতীয় রেল এবার তৎকাল টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে তৎকাল টিকিট কাটতে আধার কার্ডের প্রমাণীকরণ (আধার অথেন্টিকেশন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছে রেলওয়ে, যার প্রধান লক্ষ্য টিকিট কালোবাজারি ও জালিয়াতি রুখে সাধারণ মানুষের জন্য টিকিট পাওয়া সহজ করা।
এজেন্টদের জন্যও একই নিয়ম, বাড়ছে স্বচ্ছতা
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, কিছু অসাধু এজেন্ট একসঙ্গে অনেক তৎকাল টিকিট কেটে নিয়ে পরে যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে। এই জালিয়াতি রুখতে এবার এজেন্টদের জন্যও একই নিয়ম চালু করা হচ্ছে। রেলের ঘোষণা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সেইসব এজেন্টরাই তৎকাল টিকিট বুক করতে পারবেন, যাদের আধার অথেন্টিকেশন সম্পন্ন হয়েছে।
রেলের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “তৎকাল প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ পান, তার জন্যই আধার অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হলো।” আগামী ১ জুলাই থেকে IRCTC ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে তৎকাল টিকিট কাটার সময় আধার প্রমাণীকরণ বাধ্যতামূলক হবে।
১৫ জুলাই থেকে OTP অথেন্টিকেশনও চালু
শুধু আধার কার্ড নয়, আগামী ১৫ জুলাই থেকে আধার ভিত্তিক OTP (One Time Password) অথেন্টিকেশনও চালু করবে ভারতীয় রেল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “রেলের কম্পিউটারাইজড PRS (প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম) কাউন্টার বা অনুমোদিত এজেন্টদের মাধ্যমে তৎকাল টিকিট বুক করার সময়ে যাত্রীদের মোবাইল নম্বরে সিস্টেম জেনারেটেড OTP যাবে। সেই OTP ভেরিফিকেশনের পরেই তৎকাল টিকিট বুক করা যাবে।” এই পদক্ষেপও টিকিট কালোবাজারি রুখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এজেন্টদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ: প্রথম আধঘণ্টা ‘নো বুকিং’
এছাড়াও, এজেন্টদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তৎকাল বুকিং উইন্ডোর প্রথম আধঘন্টায় তারা কোনো টিকিট বুক করতে পারবেন না। অর্থাৎ, সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এয়ার-কন্ডিশন্ড শ্রেণির তৎকাল টিকিট এবং সকাল ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নন-এসি শ্রেণির টিকিট বুক করতে পারবেন না তাঁরা। এই নিয়ম কালোবাজারির সুযোগ কমিয়ে সাধারণ যাত্রীদের জন্য তৎকাল টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
রেলের এই নতুন নিয়মাবলী তৎকাল টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনবে এবং প্রকৃত যাত্রীরা যাতে দ্রুত ও সহজে টিকিট পান, তা নিশ্চিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি রেলযাত্রীদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।