“ত্রিপল থেকে বালির খাদান”—দুর্নীতির লম্বা ফিরিস্তি, গ্রেফতার দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর

আসানসোল পুরনিগমে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ত্রাণের ত্রিপল অবৈধভাবে বাড়িতে মজুত করার অভিযোগে আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ কী? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র মানুষদের জন্য বরাদ্দ ত্রিপলগুলি প্রাপকদের হাতে তুলে না দিয়ে নিজের বাড়িতে সরিয়ে রেখেছিলেন ওই কাউন্সিলর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায় এবং কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সরাসরি জালিয়াতি ও সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

ত্রিপল ছাড়িয়ে বালির খাদান ও তোলাবাজি কেবল ত্রাণের ত্রিপল চুরির অভিযোগই নয়, তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। পুলিশের দাবি, ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এলাকায় বেআইনি বালি খাদান ও বালি ব্যবসার সাথে সরাসরি যোগ থাকারও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলগুলো—বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস—অভিযোগ করে আসছিল যে, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা সরকারি ত্রাণের সামগ্রী আত্মসাৎ করছেন। এতদিন এই অভিযোগগুলি মূলত নথিবদ্ধ হয়ে থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ সক্রিয় হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। আসানসোল পুরনিগমের কোনো বর্তমান কাউন্সিলরের ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

এখন সকলের নজর আদালতের দিকে—অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয় কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তদন্তকারী দল। এই গ্রেফতারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy