তেল বিক্রির চেয়েও লাভজনক ট্রানজিট ফি! হরমুজ প্রণালী থেকে বছরে ৮০ বিলিয়ন ডলার আয়ের পথে ইরান?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ ১০০ দিনের সংঘাতের পর শান্তির পথে হাঁটতে শুরু করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির আবহে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ‘হরমুজ প্রণালী’। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই করিডোরটিকে ব্যবহার করে ইরান এবার এক নতুন রাজস্ব মডেল তৈরির পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

শুল্ক থেকে কত আয় হতে পারে ইরানের? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেল ট্যাঙ্কারের ওপর ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পরিকল্পনা পুরোপুরি কার্যকর হয়, তবে ইরান বছরে ৭০ থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।

তুলনামূলকভাবে দেখলে, ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় গত কয়েক বছরে এই অংকের চেয়ে অনেক কম। যেমন, ২০২৩ সালে ইরান তেল রপ্তানি করে ৪১.১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৬.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। ফলে, এই ট্রানজিট ফি কার্যকর হলে তা ইরানের জাতীয় অর্থনীতির জন্য তেল বিক্রির চেয়েও বড় আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

কিভাবে এই টোল আদায় করা হবে? ইরানের এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী:

  • ব্যারেলপ্রতি ফি: প্রতিটি তেল ট্যাঙ্কারে বহন করা তেলের পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ধার্য করা হবে।

  • নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: পারস্য উপসাগর এবং উন্মুক্ত মহাসাগরের সংযোগস্থল হওয়ায় ইরান তার জলসীমায় নজরদারি বাড়িয়ে এই টোল আদায়ের প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির কথা ভাবছে।

  • বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতা: বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ইরান যদি আন্তর্জাতিক আইনের কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই বা সমঝোতার মাধ্যমে এই ফি কার্যকর করতে পারে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বড় রাজস্ব ভাণ্ডার হয়ে উঠবে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান এই পথে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও বর্তমানে ইরানের দৈনিক তেল রপ্তানি প্রায় ১৬ লক্ষ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তারা আগের চেয়ে ভালো দামও পাচ্ছে, তবুও ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র এককভাবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে ইরান যদি এটিকে ‘পরিষেবা শুল্ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে তেহরানের অবস্থান হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy