মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার। এশিয়া ও ইউরোপের একাধিক দেশের মতো তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশও। প্রতিবেশী দেশ ভারত ডিজেল দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও মেটেনি ঘাটতি। এই পরিস্থিতিতে তেলের আমদানি ব্যয় সামাল দিতে বিশাল অঙ্কের আন্তর্জাতিক ঋণের পথে হাঁটছে তারেক রহমানের সরকার।
জুন মাসের মধ্যেই ২ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুনের মধ্যে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দেশের আমদানির খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
কার কাছে হাত পাতছে ঢাকা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত অর্থের প্রয়োজন। এই ঘাটতি মেটাতে মূলত তিনটি জায়গার ওপর ভরসা করছে বিএনপি পরিচালিত সরকার:
-
বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank)
-
এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB)
-
অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা।
কেন এই চরম সংকট?
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে (Forex Reserve) টান পড়েছে। ১. ডলার সংকট: ডলারের ঘাটতির কারণে আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ২. কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি: উচ্চমূল্যের জ্বালানি আমদানির ফলে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে। রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এই ঋণ নেওয়া ছাড়া আপাতত আর কোনো সহজ পথ নেই ঢাকার সামনে।