কামালগাছির কাছ থেকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে শাসক দলকে নিশানা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। গ্রেফতারির ঘটনাকে ‘সবে শুরু’ বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে অন্তত দেড় হাজার অপরাধীকে গ্রেফতার করা উচিত। মানুষের মনে যে চরম ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে, তাতে এদের অবিলম্বে আইনের আওতায় না আনলে বড় কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে।” তাঁর কথায়, রাস্তার পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ওইসব অভিযুক্তদের সুরক্ষার স্বার্থেই তাদের গ্রেফতার করা প্রয়োজন।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের নিশানায় ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদব বাবাকে সরিয়ে নিজে দলের শীর্ষে এসেছিলেন। এখানেও নির্বাচনের আগে লোকে ‘উত্তরপ্রদেশ সিন’ হওয়ার আশা করেছিল, কিন্তু তার বদলে ‘মহারাষ্ট্র সিন’ তৈরি হয়েছে। এখন সবাই অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। দলীয় নেতারা আজ অনাথ হয়ে পড়েছেন, জানেন না কাকে নেতা মানবেন।” তাঁর মতে, তৃণমূলের যে ‘মন্দির’ আজ ভেঙে পড়েছে, সেখানে আর কোনো ভগবান অবশিষ্ট নেই।
ফিরহাদ হাকিমের বিদায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী তীব্র শ্লেষের সুরে বলেন, “উনি কি এতদিন খড়ম পুজো করছিলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ড্রামা করা শিখেছেন। এখন সেই ড্রামা বন্ধ রাখা উচিত। কী মারাত্মক অহংকার ছিল এঁদের! আইনকে যারা ডোন্ট কেয়ার বলতেন, তারাই এখন সুর বদলেছেন। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে কি এরা পদত্যাগ করতেন? যারা এতদিন ক্ষমতার ভোগ করেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি এদের হাতেও পাপ আর রক্তের দাগ লেগে আছে। অন্যায়কারী এবং অন্যায় দেখতে থাকা—উভয়কেই সমান মাপকাঠিতে বিচার করতে হবে।”
কলকাতা পুরসভা সহ রাজ্যের ১৪০টি পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “হাওড়া পুরসভায় আট বছর নির্বাচন নেই। মানুষ এদের অপশাসন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে যোগ্য জবাব দিচ্ছে। আশা করা যায়, নভেম্বরের পর রাজ্যে সব জায়গায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
সবশেষে তৃণমূলের বিভিন্ন কার্যালয়ে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূল মানেই যেন ওयो রুম! হাসপাতালে শাড়ির দোকান থেকে শুরু করে স্পা, মদের বোতল—কী নেই সেখানে! পুলিশ সব জেনেও কেন নীরব? প্রভুর বিদায় হয়ে গেছে, তবুও কিছু পুলিশ অফিসারের এই প্রভুভক্তি এখনও কাটছে না কেন?” তৃণমূল নেতাদের বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “নেতারা এখন কাঁচা ডিম খাচ্ছেন, সেদ্ধ করার সময়টুকুও পাচ্ছেন না। যারা ভেবেছিলেন মানুষকে মাড়িয়ে চলে যাবেন, মানুষ আজ তাদের দেখিয়ে দিয়েছে।”





